স্টাফ রিপোর্টার
প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে জগন্নাথপুরের পৌর এলাকার ইসাকপুর গ্রামের সরকারি গোপাট দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন লন্ডন প্রবাসী জালাল উদ্দিন ও তার ভাই জয়নাল উদ্দিন।
সরকারি গোপাটে নির্মিত দেয়াল অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ইসাকপুর গ্রামের বাসিন্দা আরজুমান্দ আলী। তিনি জানান, সরকারি ওই গোপাটের প্রতিবন্ধকতা অপসরণের জন্য জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি), জগন্নাথপুর পৌরসভায় আবেদন করে কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না । ওই গোপাট উদ্ধারে সর্বশেষ ২২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার ইসাকপুর মৌজার ৭৪ নং জে,এল এর ১ নং সরকারি খতিয়ানের ১৭৬৩ দাগের ০.২৫ একর গোপাটরকম ভূমির অধিকাংশ জোর করে দখল করেন গ্রামের প্রভাবশালী জালাল উদ্দিন ও তার ভাই জয়নাল উদ্দিন। পরবর্তীতে ওই গোপাটের ওপর স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ করেন তারা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন একই গ্রামের বাসিন্দা আরজুমান্দ আলীসহ অন্যান্য লোকজন।
ওই সরকারি গোপাটের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে দাবি জানিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নির্দেশে ঘটনাস্থল সরেজমিন তদন্ত করেন জগন্নাথপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) ও ইসাকপুর মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার। তদন্তে গোপাটের জমি দখল করে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি ধরা পড়ে। দেয়াল উচ্ছেদ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সার্ভেয়ার সুপারিশও করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই গোপাটের দেয়াল উচ্ছেদ করা হয়নি।
এরপর গত মার্চ মাসে একইভাবে গোপাটের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের জন্য জগন্নাথপুর পৌরসভায় আবেদন করা হয়। কিন্তু গোপাটের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই গোপাটের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করা হয়।
সরকারি গোপাট দখলকারী অভিযুক্ত জয়নাল উদ্দিন বলেন,‘এটা সরকারি গোপাট নয়, দুই পরিবারের মাঝের ছোট্ট একটি খাল। আমার ওয়ালের ভিতরে হয়তো হাত-দেড়হাত জায়গা পড়েছে। আমি বলেছি ওইটুকু আমি ভেঙে দেব। আরজুমান্দ আলী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আমি তাকে বলেছি আমার টাকা পয়সা খরচ হয়েছে, কিছু খরচ দিলে আমি ওয়াল ভেঙে দেব। ’
জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অফিস সহকারি আব্দুল বাছিত বলেন,‘ ওই (১ নং সরকারি খতিয়ানের ১৭৬৩ দাগ) দাগের ভূমি দখল-বেদখলের বিষয়ে কিছু জানা নেই। তবে এটি গোপাট রকম ভূমি বলে রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে।’
জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ইসাকপুর মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার মির্জা মো. নূরে আলম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ ওই সরকারি গোপাটের বিষয়ে বেশ আগে তহসিলদার সাহেবকে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছি। গোপাটের ৫-৭ ফুট করে অন্তত ৮০-৯০ ফুট জায়গা দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এই দেয়াল উচ্ছেদ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আমি সুপারিশ করেছি। পরে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। ’
জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ বলেন,‘ আমি উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। সরকারি গোপাট দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগের বিষয়টি আমার নজরে পড়েনি। কারো বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি জমি বা গোপাট দখলের অভিযোগ থাকলে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’


