সু.খবর ডেস্ক
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি পুরো বিশ্ব। ইতোমধ্যে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। কর্মহীন হওয়ার পথে আরও অনেকেই। লকডাউনের কারণে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাও নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড ব্যাসলি বলেছেন, প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়া না গেলে বৈশ্বিক মহামারির এ সময়ে অনাহারে অন্তত তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। স্থানীয় সময় বুধবার কানাডার দৈনিক দ্য গ্লো অ্যান্ড মেইল পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। এদিকে বিশ্বব্যাংক গতকাল সতর্ক করে বলেছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে সাব-সাহারা অঞ্চলে সবচেড়ে বড় মন্দা দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘের সংস্থা ডব্লিউএফপি বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। সংস্থাটি প্রতি বছর ৮৩টি দেশে প্রায় ১০ কোটি দরিদ্র মানুষকে খাদ্যের জোগান দেয়। কিছুদিন আগে করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা ব্যাসলি বলেন, এসব মানুষকে খাদ্যের জোগান দিতে সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল ডব্লিউএফপি। তাদের মধ্যে তিন কোটি মানুষের জীবন-মরণ এই খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন। এ অবস্থায় সরকারগুলো যদি ডব্লিউএফপির তহবিলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, তাহলে তিন কোটি মানুষ খাদ্যের অভাবে মারা যাবে।
এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে ব্যাসলি বলেন, ‘যদি অর্থসহায়তা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তিন মাসের মধ্যে তিন কোটি মানুষ মারা যাবে। খাদ্যের অভাবে প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী মারা যাবে তিন লাখ মানুষ।’ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের পরিসংখ্যানের চেয়ে এই হিসাব হাজার গুণ বেশি ভয়ংকর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ব্যাসলি বলেন, ‘ঝুঁকি সত্ত্বেও খাদ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে ডব্লিউএফপির ৯৭ শতাংশ কর্মী মাঠে কাজ করছেন। তবে অনেক দেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরবরাহের আগে খাদ্যভর্তি ট্রাক ও বিমানগুলো দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। তখন আমি অবাক হয়ে দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করি, তার মানে এই মানুষদের দুই সপ্তাহ না খেয়ে থাকতে হবে!’
এদিকে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলো। এ অঞ্চলের ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলটিকে ঋণ সহায়তার আওতায় আনার কোনো বিকল্প নেই।
ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় আফ্রিকায় অনেকটা দেরিতেই নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। তবে এখন ক্রমেই তা বাড়ছে। এমন অবস্থায় বিশেষ করে পর্যটন ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় এই দুই খাতের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো বেকায়দায় পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থিক প্রবৃদ্ধি শূন্যের নিচে নেমে যেতে পারে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাব-সাহারা অঞ্চলের দুই তেল উৎপাদনকারী দেশ নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার ওপর। অঞ্চলটির সবচেয়ে শিল্পায়িত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রত্যাশিত পথে থাকতে পারবে না। এমন অবস্থায় যা সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়াচ্ছে, তা হলো- সাব-সাহারা অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। সূত্র : সমকাল


