সজীব দে
হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ/তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/সূর্যের মতন/রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন/ব্যক্ত হোক জীবনের জয়, ব্যক্ত হোক তোমা মাঝে অসীমের চিরবিস্ময়/উদয় দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে/চিরনূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ।
আজ পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬ তম জন্মদিন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনে কবির ৮০ বছরের অমূল্য জীবনসাধনার তুলনা শুধু তিনিই। আধুনিক বাঙালির রুচি ও মানস গঠিত হয়েছে তার হাতেই। বাঙালিকে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের ভাষা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। দেখার দৃষ্টিকে প্রসারিত করেছেন; দিয়েছেন সৃষ্টির প্রেরণা। বাঙালির শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা, দৈনন্দিন আবেগ-অনুভূতিতেও সারাক্ষণ জড়িয়ে আছেন তিনি। আছেন নিঃশ্বাসে-বিশ্বাসে, বুদ্ধি-বোধ-মর্মে-কর্মে। তার লেখা, দর্শন, চিন্তা-চেতনার
বহুমাত্রিক আলোকছটার বাঙালির জাতি গৌরবান্বিত। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় তিনি ‘রূপসাগরের অরূপরতন।’
রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য তাঁর ভাবগভীরতা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা…..। যা বলে শেষ করা যাবে না। বাংলা কবিতার আধুনিকতার নবায়ন ঘটেছে তার হাত ধরেই। জনক বাংলা ছোটগল্পের। বাংলা গদ্য সমৃদ্ধির নতুন সোপান খুঁজে পেয়েছে তাঁর হাতেই। প্রবন্ধ-নিবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সাহিত্যের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের গান বাংলা সংগীতভান্ডারকে করেছেন সমৃদ্ধ। তবে রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা ভাষার একজন কবি, লেখক, গীতিকার, দার্শনিক বা অন্য আরও বিশেষণে অভিহিত মহাপুরুষই নন, তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমাদের সবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা কিন্তু তিনি নিজেই বলে গেছেন। সেই কথাটি হলো-‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক/আমি তোমাদেরই লোক।’ সত্যিই তাই। গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনসমাজে শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে সার্বিক সমাজকল্যাণের তত্ত্ব প্রচার করেছেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে জানিয়েছিলেন তিনি তীব্র প্রতিবাদ। মানবতাবাদী এ কবি মানুষের ওপর দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল ছিলেন। ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।’ বিশাল কর্মময়-সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি তাঁর প্রমাণ দিয়ে গেছেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘নাইট’ উপাধি দেয়, কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ওই উপাধি বর্জন করেছিলেন তিনি।
‘আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতুহল ভরে, আজি হতে শতবর্ষ পরে।’ শুধু শতবর্ষ নয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (রবি) আলোর বিচ্ছুরণ ঘটবে পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত। বিশ্বকবির দর্শন-চেতনা ধারণ করতে পারলেই বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বৈষম্যের বিলোপ সাধন, ধর্ম, বর্ণ, বৈচিত্র্য সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবো আমরা। গড়ে উঠবে শান্তিময় দেশ তথা বিশ্ব।
- বিশ্বম্ভরপুরের প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ
- জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও তাহিরপুরে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা


