করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের ভয়-ভীতি কমতে শুরু করেছে বলে বেশ বুঝা যায়। ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভিত্তিক ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম শুরুর পর থেকে এখন প্রতিদিনই ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। যেকোনো নতুন জিনিসের প্রতি মানুষের সন্দেহ, অবিশ্বাস, ভয়-ভীতি নতুন কিছু নয়। এর সাথে যদি রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য জড়িত হয়ে পড়ে তখন সেটি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠে। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের দেশে রাজনৈতিক মহল বিশেষ পানি ঘোলা করার কম চেষ্টা করেনি। বরং বলা ভাল, এই মহলটি যেকোনো বিষয়কেই সমালোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত করে সরকার বিরোধিতার উপকরণে পরিণত করে। কোভিড ১৯ ভাইরাসের সবচাইতে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী ধরনটি হয়তো বাংলাদেশে আসেনি অথবা বাংলাদেশ জল-হাওয়া এই ভাইরাসকে প্রলয়ংকরী হয়ে উঠতে সহায়তা করে না। তাই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা আমাদের দেশে কম ছিল। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, একই ধরনের বৈশিষ্টসমৃদ্ধ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে কিন্তু করোনা ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল। এই জায়গায় করোনা মোকাবিলায় সরকারের সময়োচিত ভূমিকা গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনাকে অস্বীকার করার নাম হলো অকৃতজ্ঞতা। বলাবাহুল্য আমাদের সেই চিহ্নিত রাজনৈতিক মহলটি করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই বিরোধিতার হাতিয়ার ব্যবহার এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ রাখেনি। কিন্তু শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে এখন করোনা ভাইরাসের বিদায় ঘণ্টা বাজতে চলেছে আমাদের দেশে। ভ্যাকসিন ব্যবহার নিয়েও বিরোধী মহলের প্রচারণা যে হালে পানি পাবে না তাও নিশ্চিত।
মঙ্গলবার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা ভ্যাকসিন গ্রহণের বিপক্ষে নন। সুবিধাজনক সময়ে তাঁরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন মর্মে আশ্বস্ত করে তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। শুরুর দিনেই বিরোধী জোটের প্রধান চিন্তক-দার্শনিক-সংগঠক ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ভ্যাকসিন গ্রহণ করে বিরোধীদের বিরোধিতার পথকে বন্ধ করে দিয়েছেন। এজন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জাফরুল্লাহকে ধন্যবাদ। ভ্যাকসিন হলো বিজ্ঞানের আশীর্বাদ। এই সময়ের মানবগোষ্ঠীর সৌভাগ্য যে, আট মাসের মাথায়ই একটি মহামারীর ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়েছে। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা রাত-দিন পরিশ্রম করে ভ্যাকসিনকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। দিন দিন এর আরও উৎকর্ষ সাধিত হবে নিঃসন্দেহে। আমাদের দেশের একটি প্রতিষ্ঠানও ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এটি হলে বাংলাদেশের সুনাম ও সক্ষমতার গল্প আরও অনেক উঁচুতে উঠে যাবে। তাঁরা এই কাজটি করেছেন মানব সভ্যতার মঙ্গল কামনা করেই। বিজ্ঞানের এই আশীর্বাদকে কেন আমরা সস্তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কাজে লাগাব?
সরকার বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিচ্ছে। জনগণের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের অঙ্গীকার রক্ষার জন্যই এই উদ্যোগ। জনগণের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের কল্যাণধর্মী সকল কর্মকা-ে সহযোগিতা করা। মানুষ এখণ স্বতস্ফূর্তভাবে উৎসবমুখরতায় ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। ভ্যাকসিন গ্রহণ পরবর্তী হাসি মুখের ছবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সয়লাব। উৎসবপ্রিয় বাঙালির এ আরেক অভিনব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যেকোনো উপলক্ষকে উৎসবে পরিণত করতে বাঙালির জুরি মেলা ভার। আমরা চাই ভ্যাকসিন গ্রহণ এমন উৎসবের আনন্দেই চলতে থাকুক। উৎসব হবেই বা না কেন? একটি মহামারী থেকে বাঁচার জন্য যে উপহার সেটি গ্রহণ করার চাইতে বড় উৎসব আর কী হতে পারে ? তাই উৎসব চলছেÑচলুক। সকলেই সেজেগুজে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। পরিবার পরিজন নিয়ে যান। পাড়া-পড়শী নিয়ে যান। আপাতত ৪০ বছর বয়সী পরে ১৮ বছর উর্দ্ধ একটি মানুষও যাতে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করে আসুন আমরা সকলে নাগরিক কর্তব্য পালন করি। আসুন বলি, আর কোনো নিবন্ধন নয়, বরং আইডি কার্ড পকেটে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাই আর ভ্যাকসিন নিয়ে হাসি মুখে ফিরে আসি। আমাদের দেশটি করোনা মহামারীর হাত থেকে চিরতরে রক্ষা পাক এই কামনা।
- দক্ষিণ পঞ্চগ্রাম শিমুলবাঁক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের উদ্বোধন
- পদোন্নতি পাচ্ছেন সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক

