সু.খবর ডেস্ক
চলতি মাসে দেশের ৪৯১টি উপজেলার প্রায় ১৫শ’ সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে উপনির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে জানুয়ারি মাসের শেষভাবে ভোটের দিন হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ করা হবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এজন্য চলতি সপ্তাহেই স্থানীয়ভাবে অথবা কমিশন থেকে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এসব আসন শূণ্য ঘোষণা করে ইসিকে জানালে কমিশন এসব নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছে। গত ৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের ১৬তম সভায় এ নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা ও ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ জুন নারী সদস্য পদে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের মতোই এসব আসনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে বা প্রার্থী হতে পারবেন না। এ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট উপজেলার এলাকাভুক্ত পৌরসভা (যদি থাকে) ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য বা নারী কাউন্সিলররা প্রার্থী ও ভোটার হবেন।
বর্তমান উপজেলা পরিষদগুলোর মেয়াদ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রয়েছে। এ নির্বাচনে জয়ীরা ওই মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ শনিবার জানান, উপজেলা পরিষদের মহিলা সদস্য পদে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নথিতে উপস্থাপন করতে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই নথিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন কমিশনারগণ।
এদিকে ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত কমিশন সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বিধি অনুসারে আগামী ২৯ জানুয়ারি সোমবার ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে ৪৯১টি উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের ১ হাজার ৪৯১টি শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে।
উপজেলা পরিষদের ১ হাজার ৪৯১টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ শূন্যের কারণ সম্পর্কে ইসির কর্মকর্তারা জানান, অনেক নারী সদস্য ২০১৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন। আবার অনেকে চেয়ারম্যান বা অন্যান্য পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছে। এসব কারণে পদগুলো শূন্য হয়।
নবনির্বাচিত নারী সদস্যদের মেয়াদ সম্পর্কে ইসির কর্মকর্তারা জানান, তাদের মেয়াদ হবে বর্তমান উপজেলা পরিষদের বাকি মেয়াদকাল পর্যন্ত। অর্থাৎ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত।
কেননা, উপজেলা পরিষদগুলোতে সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের ফেব্রয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত। উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ৭ ধারা অনুসারে এসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ (প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হবে।
কমিশন সভায় অংশ নেয়া যুগ্ম সচিব পর্যায়ের ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, কমিশন সভায় জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হয়, তাহলে মার্চে ভোটগ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(খ) ধারা অনুযায়ী, মহিলা সদস্য পদ শূন্য হলে ওই আসনে ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৭ ডিসেম্বর এসব পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এ হিসাবে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা এবং ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬টি কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ হবে। এসব দিক বিবেচনায় রেখে জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।


