স্টাফ রিপোর্টার
দেশ স্বাধীনের পর প্রতিষ্ঠিত হয় দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজার। দীর্ঘ দিনেও যথাযথ উন্নয়ন হয়নি বাজারের। সমস্যায় জর্জরিত এ বাজারে কোনো ডাস্টবিন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, গণশৌচাগারও নেই। ফলে পুরো বাজার হয়ে উঠে শুকনা মওসুমে ময়লার ভাগাড় এবং বর্ষায় জমে থাকে কাদা পানি।
প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার শ্রীপুর বাজার বসে। এ দুইদিন বিকিকিনির জন্য নিয়মিত আগমন হয় আশপাশের ৫০টি গ্রামের লোকজনের। প্রচার আছে উপজেলার ২৪টি বাজারের মধ্যে অন্যতম এ ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বাজার।
জানা যায়, বাজারটি প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ইজারা হয়। এবারও ৬ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে শ্রীপুর বাজার। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পান্ডারগাঁও
সেতু নির্মাণের পর পান্ডারগাঁও এলাকার ব্যবসায়ীদের দাবি এ বাজারটির নাম পান্ডারগাঁও বাজার করার। নাম নিয়ে বিরোধের কারণে বাজার কমিটি গঠনের বিষয়টি মুখ থুবড়ে পড়ে। এদিকে বাজারে কোন ধরনের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিটি গলিতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-খাটো অসংখ্য গর্ত। গলির রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে পুরো রাস্তাই ভরে উঠছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। বর্ষায় জমে থাকে হাটু সমান কাদা পানি।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বাজার উন্নয়নে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বার বার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কোনো উন্নয়ন হয়নি। তবে এবার দুই পর্বে বাজারের ভেতরে এক গলির রাস্তার কিছু অংশে পাকাকরণের কাজ হবে। বাজারে গলি আছে ৪টি, দোকানঘর আছে ৫ সারিতে প্রায় শতাধিক দোকান কোঠা। একেকটি গলি প্রায় ৮শত ফুট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট।
এর আগে আরেক বার বাজারে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে ড্রেনের কাজ বন্ধ হয়ে যায় ।
বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুছ ছুবহান বলেন, বাজারের এক গলির রাস্তার কিছু অংশের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আরও পুরো ৩ গলির রাস্তার কাজ। বাজারের সকল গলির রাস্তায় কাজ শেষ না হলে প্রতিটি গলিতে বর্ষায় কাদা জমে থাকবে।
ব্যবসায়ী সামছুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর বাজারের সকল সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এ বাজারে সোম ও শুক্রবারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়ছে। কিন্তু নানা সমস্যায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভুগান্তি বেড়েই চলেছে।


