ওএমএস নিবন্ধন/ মধ্যবিত্তরাও লাইনে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষক মো. মনফর আলী (৭৬) সকাল থেকে উকিলপাড়ায় ওএমএস ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়ে নাম নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছেন। পোশাক ও চেহারায় স্বচ্ছলতার ছাপ রয়েছে। ওএমএস’র তালিকায় আপনি কেন নাম অন্তর্ভূক্ত করতে চাচ্ছেন, প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, জিনিসপত্রের দাম বেশি। আমি আটার রুটি খাই। বাজারে আটার দামও বেশি। এজন্য ওএমএস তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করতে দাঁড়িয়েছি। গত চারদিন ধরে আমি ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে এসে দাঁড়াই, কিন্তু আমার নামটা লিখে না। আজও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। আমার চার ছেলে মেয়ে। পরিবারের সদস্য বেশি। ওএমএস’র কার্ডের জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারলে খুব ভালো হত।
ওএমএস কার্যক্রমে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নজরে পড়ায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কার্ডের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই প্রেক্ষিতে গত ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে আজ ১৩ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত। প্রতিদিন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পাঁচটি কেন্দ্রে ২৫০ জন করে নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে। নিবন্ধনের সাথে সাথে প্রত্যেকে চার কেজি আটাও কিনতে পারছেন। তবে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির কারণে প্রতিটি কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষ নাম নিবন্ধনের জন্য আসছেন। এতে অনেককেই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তারপরও তাঁরা দিনের পর দিন লাইন ধরে অপেক্ষা করেন, নিবন্ধন ও আটা পাওয়ার আশায়। কারণ কিছু টাকা সাশ্রয় করতে পারলে এই টাকা অন্য খাতে ব্যয় করতে পারেন তারা।
ওএমএস পয়েন্টে চার কেজি আটা ১০০ টাকায় পাওয়া যায়, কিন্তু বাজারে এক কেজি আটার দাম ৬৫ টাকা। এজন্য শুধু হতদরিদ্ররাই নয়, নি¤œ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছল পরিবারের মানুষজনও সংকোচ ভুলে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
সোমবার পৌরসভার একাধিক ডিলার কেন্দ্রে সরেজমিন দেখা যায়, মধ্যবিত্তদের কেউ কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ কেউ ভিড় কমার আশায় দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। অতিরিক্ত ভিড় দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
শহরের মাইজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সরফুল নেছা। দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্বামী স্ত্রী সহ ছয়জনের পরিবার। স্বামী কৃষিজীবী। বড় ছেলে আব্দুল্লাহ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বড় মেয়ে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ছোট দুই ছেলে মেয়ে প্রাইমারিতে পড়ে।
তিনি বললেন, আমি তিনদিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও নামটা দিতে পারি নি। আমার চার ছেলে মেয়ে। সবাই পড়াশুনা করে। খরচ বেশি। খাতা কলম, বই, স্কুলের বেতন এবং জিনিসপত্র কিনে চলতে পারি না। যদি ওএমএস এর চাল-আটা পেলে খুব উপকার হয়। তবে আজকেও আমি খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে উকিল পাড়া এলাকার ডিলার বিধান চন্দ্র দাশ বললেন, প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫০ জনকে ওএমএস’র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বললেন, দরিদ্র পরিবারের পাশাপাশি ওএমএস তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে মধ্যবিত্ত এবং অনেক উচ্চবিত্তরাও আসছেন, তাদেরকেও আমরা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করছি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ৫টি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫০ জনকে ওএমএস’র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
তিনি বললেন, পরবর্তীতে কেন্দ্র বৃদ্ধি করা হলে আরও মানুষজন তালিকাভূক্ত হবেন এবং চাল- আটা নিতে পারবেন।