মধ্যনগর প্রতিনিধি
শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে নদী পার হতে পারলেও বর্ষায় রুদ্রমূর্তি ধারণ করে সোমেশ্বরী নদী। উজান থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীতে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।
শুষ্ক মৌসুমে নদীর উপর মাত্র ত্রিশ ফুট বাঁশের চাটাই দিয়ে নদী পারাপার হতে পারলেও বর্ষায় সোমেশ্বরীর বুক প্রসারিত হয়ে দুইপাড়ের দূরত্ব হয় প্রায় ৩০০ মিটার। তখন নৌকায় ¯্রােতস্বিনী এই নদী পারাপার হতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। জরুরি প্রয়োজনে নদী পার হতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় নিয়মিতই।
সোমেশ্বরী নদীর একদিকে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা, অন্যদিকে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার বিশরপাশা। মাঝে ৩০০ মিটারের দূরত্ব। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের চাটাই দিয়ে চলে পারাপার আর বর্ষায় ডিঙ্গি নৌকাই ভরসা। যদিও রাতে থাকে না কোনো নৌকা।
নদীর পশ্চিম পাড়ে বিশরপাশায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও এভারগ্রীন কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা। কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীকে বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে যেতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। জানা যায়, প্রতিবছরেই একাধিকবার নৌকা ডুবে দুর্ঘটনার শিকার হন অনেকেই।
এলাকাবাসী বলছেন, একটি সেতুতেই পরিত্রাণ পেতে পারেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। নিরাপদ হতে পারে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর প্রাণ। নদীতে একটি সেতু নির্মাণের জন্য উভয়পাড়ের মানুষের দাবি বহু বছর আগের।
মধ্যনগরের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চান্দালীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ ওষুধপত্র সহ দৈনন্দিন গৃহস্থালি পণ্য কেনাবেচার জন্য নদীর ওই পারের বিশরপাশা বাজারের উপর নির্ভরশীল। এসব গ্রামের শতশত শিক্ষার্থী নদীর ওইপারে বিশরপাশা হাইস্কুলে পড়তে যায়। বর্ষায় নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকে। তখন বিদ্যালয়গামী ছোট ছেলে মেয়েদের ডিঙি নৌকায় খেয়া পারাপারে প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকে। নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হলে আমাদের জীবনের ঝুঁকি কমবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নতি হবে।
একই ইউনিয়নের বংশীকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদা আহমেদ বলেন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সকল জনসাধারণ চিকিৎসা নিতে কলমাকান্দা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। রাতে-বিরাতে গুরতর অসুস্থ্য রোগীদের নিয়ে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে কলমাকান্দা যেতে হয়। সন্ধ্যার পর খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে ভোগান্তিতে পরে স্বজনরা। রাতে নদী পারাপারের খেয়া বন্ধ হয়। এতে প্রসূতি মায়েরা সবচেয়ে বেশি জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হন। সোমেশ্বরী নদীতে একটা সেতু নির্মাণ করলে উভয়পাড়ের মানুষ উপকৃত হবে।
মধ্যনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বললেন, জেলার অনেকগুলো নদীতে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা আছে। আমার ধারণা সোমেশ^রী নদীতেও সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।


