স্টাফ রিপোর্টার
ফসল রক্ষা বাঁধের অতিরিক্ত প্রকল্প (অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প) নিয়ে এবার হাওরের পাড়ে পাড়ে আলোচনা হচ্ছে। শনিবার জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দেখার হাওরে জেলা প্রশাসক জেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি সরেজমিনে গিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার হাওররক্ষা বাঁধের কাজের প্রকল্প বাতিল করার নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, দেখার হাওরের মাঝখানে নতুননগর থেকে পলিরচর পর্যন্ত বাঁধ ২০১৭ সালে প্রথম নির্মিত হয়েছিল। এটি অকাল বন্য ও পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে কাজে লাগছে না। এটি কেবল ফসল কেটে ঘরে নেবার ক্ষেত্রে কাজে লাগে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোয়ারাবাজারের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েম জানালেন, প্রকল্প দেবার সময়ই এটি ফসল বহন করার কাজে লাগে উল্লেখ করে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। পাঁচটি পিআইসিকে (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এখানে ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেবার প্রস্তাব করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক মহোদয় সরেজমিনে দেখে বলেছেন, এই প্রকল্পটি এবার না হলেও চলবে।
একইভাবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ছয় কোটি টাকার প্রকল্প আটকে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এই উপজেলায় বিগত বছরগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদও ছাপা হয়। জেলা প্রশাসক এখানকার গ্রহণ করা ৭১ প্রকল্পের ৩০ টি প্রকল্পের কাজ না করে আরও যাচাই করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নীতিমালার আলোকেই হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি অর্থের অপচয় করতে দেওয়া হবে না। কেবল হাওরের ফসল রক্ষার প্রয়োজনেই বাঁধ হবে। এজন্য তিনি হাওরপাড়ের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে তথ্য দিয়ে সহায়তারও অনুরোধ জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানান, এবার সুনামগঞ্জের ৪৮টি হাওরে বাঁধের কাজ হবে। ইতিমধ্যে ৯০৪ টি প্রকল্প প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্যে জেলা কমিটি ৫৮০ টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ৪০টিতে। এবার ৬২৫ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১০০ কোটি টাকা।
- শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক
- সবজি বাজারে দফায় দফায় টোলের নামে চাঁদাবাজি/বাজারে চাষীদের উপস্থিতি কমেছে


