গুইড়া খালে সেতু নির্মাণ ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে

শহীদ নূর আহমেদ
এলজিডির আওতাধীন একটি প্রকল্পে ৪ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ববীরগাঁও ইউনিয়নের পাগলা-বীরগাঁও সড়কে গুইড়া খালে নতুন সেতু নির্মাণ হচ্ছে। এতে এই সড়কে যাতায়াত ভোগান্তি নিরসনে আশার আলো দেখছেন এলাকার বীরগাঁও, হাঁসকুঁড়ি, খরেরগাঁও, বাহ্মনগাঁও, সলফ, ধরমপুর, উমেদনগর এলাকার ২০ হাজার মানুষ। গুঁইড়া খাল সেতুটিকে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগের একটি মাইল ফলক হিসেবে দেখছেন তারা।
মানসম্মত কাজ ও দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ  
জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর। ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প মেয়াদেই কাজ সম্পন্ন করবেন দাবি উপজেলা এলজিডির প্রকৌশলী আলাউদ্দিন খানের।
জানা যায়, সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস মামুন কন্সস্ট্রাকশনের দেয়া তথ্যমতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় গুইড়া খাল সেতুর কাজ। আগাম বন্যার কারণে চৈত্র মাস পর্যন্ত নির্মাণ কাজের প্রায় ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
হাটবাজার,ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও জেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক হওয়ায় দীর্ঘ দিন যাবৎ ভোগান্তির শেষ ছিল না এলাকাবাসীর। পাগলা-বীরগাঁও সড়কের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গুইড়াখালটিই যোগাযোগের অন্যতম বাধা ছিলা। খাল পারাপারে নৌকা অন্যতম মাধ্যম ছিল। খেয়া পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের। কষ্টের শেষ ছিল না শিক্ষার্থীসহ সবার। ঝড় বাদলের দিনে ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার হত সবাই। প্রায় সময় নৌকা ডুবে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটত। হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষের। এদিকে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে দেখা যাচ্ছে আশার আলো।
বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী রনি চক্রবর্তী বলেন,‘গুইড়া খালে সেতু নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার হতে হয় আমাদের। বৃষ্টি বাদলের  দিনে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারি নি।’
বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম আহমদ রায়মন বলেন,‘গুইড়াখালের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ ও হাটবাজারের যাতায়াতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সলফ, ধর্মপুর, বাহ্মনগাঁও, উমেদনগর এলাকার মানুষ শহরে যাতায়াত করতে এই খালের কারণে অনেক কষ্ট ভোগ করেন। সেতু না হওয়া হাটা আর নৌকা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই তাদের। গুইড়াখাল সেতু নির্মাণ হওয়ায় এলাকার জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।’
পূর্ববীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর কালাম বলেন,‘গুইড়া খালে সেতু নির্মাণ হওয়ায় বৃহত্তর এই এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগের একটি মাইলফলক হবে। যোগাযোগের উন্নয়ন হলে এলাকার মানুষ হাটবাজারমুখী হবে।  এতে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। এই যুগপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’