ঘটনার নেপথ্যে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয়

শহীদনূর আহমেদ
সুনামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাজাহান মিয়ায় উপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার শহরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা দেখা যায়। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষাথীরা।
কিন্তু শিক্ষকের উপর আক্রমণ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভিন্ন কিছু
তথ্য। পারিবারিক তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে বলে জানান এলাকাবাসী। কবির মল্লিক ও তোফাজ্জল মল্লিক দুইজন পরস্পর শালা-দোলাভাই। একটি মোবাইল হারানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। কবির মল্লিকের ভায়রা হলেন শিক্ষক শাহজান মিয়া। এরই জের ধরে শনিবার রাতে নুতনপাড়ার অধিবাসী তোফাজ্জল মল্লিক ও শাহজাহান মিয়ার মধ্যে বাদানুবাদ ও একপর্যায়ে ছোটখাটো সংঘর্ষও হয়েছে। সংঘর্ষে শিক্ষক শাহজাহান মিয়াসহ তোফাজ্জল মল্লিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বিরোধ মিটানোর জন্য মধ্যস্ততা করেন। কিন্তু মধ্যস্ততা না মেনে শাহজাহান মিয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নতুন পাড়ার বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংস্কৃতি সংগঠক প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, চেচামেচির শব্দ শুনে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। দুপক্ষ থেকে যা জানতে পারি তাতে বুঝতে পারি ঘটনাটি পারিবারিক কথাকাটাকাটির জের ধরে হয়েছে। আমি এবং কাউন্সিলার গোলাম সাবেরীন সাবু দুপক্ষের আপোষ মিমাংশার জন্যে চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিবারিক ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াটা দুঃখজনক। কোমলমতি শিশুদের দিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করাটা অশোভন বিষয়।
আহত শিক্ষক শাজাহান মিয়া পারিবারিক সংঘর্ষের ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, মোবাইল নিয়ে ঘটনা। আমি তাদের বাড়ি গেলে তারা আমাকে মারধর করে।
এদিকে তোফাজ্জল মল্লিকের মা শেখ লায়লা তালুকদার বলেন, আমার ছেলে নবম শ্রেণীতে পড়ে সে কি করে সন্ত্রাসী হামলা করবে।এটাতো পারিবারিক বিষয়। মোবাইল হারিয়ে ছিল, মোবাইল পাওয়া গেছে। শাজাহান তোফাজ্জলের সম্পর্কে বোন জামাই হয়। আমি বিষয়টি শেষ করার জন্যে হাসপাতালে গিয়েছিলাম কিন্তু তারা আমারে মারধর করে।
পৌর কাউন্সিলর গোলাম সাবেরীন সাবু বলেন, ঘটনাটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঘটে।আমরা চেষ্টা করেছি দুপক্ষের মধ্যে আপোষ করতে। একটি পারিবারিক বিবাদের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জড়িত করা দুঃখজনক।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমান বলেন, আমরা কোন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় নামার জন্য বলিনি। শিক্ষার্থীরা নিজ ইচ্ছায় কর্মসূচী পালন করেছে।