বিশ্বজিত রায় বিশ্ব
দিগন্তের পূর্ব কোণে রক্তিম আভা সমৃদ্ধ সূর্যটা একদিন হাস্যোজ্জ্বল সুশ্রী বদনে আলোকিত করল বসুন্ধরা। ছিয়ানব্বই বছর আগের সেই সময়টা ছিল ব্রিটিশদের যুগ। তখনো কালো মেঘে ঢাকা প্রকৃতি। বসন্ত ঋতুর কোন এক ভোরে বৃক্ষরাজির সবুজ হাসি ও অচিন পাখির কুজনে কুজনে শুরু ঝলমলে রবির দিবস যাত্রা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা সেরে পরিশ্রান্ত সূর্যটা হেলে পড়ল শেষ দিগন্তে। বিদায়বেলার আকৃতিটা পূর্বাকাশে উদিত সেই গোলাকার রুটির মতোই, যা ছিল বেদনার লালিমায় পূর্ণ। মনে হল বিদায়ী বর্ষায় গোধূলি শ্রাবণের এক গুমড়ামুখী প্রকৃতি। সন্ধ্যা পেরিয়ে পৃথিবীতে আছরে পড়লো গুটগুটে অন্ধকার। আলো ছড়ানো দীপ্তিমান বস্তুটিকে হারিয়ে প্রাণীকূল পতিত হয় নিঝুম দ্বীপের বিকৃত গর্জনের ভয়ার্ত গন্ডিতে। সূর্য দেবতার ঝিলিক যেমন হাসিয়েছিল ধরার বুক তেমনি প্রস্থানে সঙ্গী হয় ভারি বেদনা।
বলছিলাম ক্ষণজন্মা এক মহামনীষীর কথা। যিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, ইতিহাসের মহারাজা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, মানবতা ও শান্তির অগ্রদূত, রাজনীতির মহাকবি, চেতনার অগ্নিমশাল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জন্মেছিলেন ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ আর পাষন্ড নরপিশাচদের নির্মম হত্যাকান্ডে চিরবিদায় নেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। পঞ্চান্ন বছরের ক্ষুদ্র জীবনে বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন ভূখন্ড ও একটি জাতির দীর্ঘ বঞ্চনা ঘুচিয়ে পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আছেন তুলির আছড়ে, বঙ্গ প্রান্তরে, গান ও কবিতার ছন্দে। আমাদের প্রয়াত কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘ধন্য সেই পুরুষ’ কবিতায় বাঙালির মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে এভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেনÑ ‘…ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল, গান হয়ে/নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা; যাঁর নামের ওপর/কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া/ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পাখা মেলে দেয় জ্যোৎস্নার সারস/ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো/দুলতে থাকে স্বাধীনতা/ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর ঝরে/মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।”
আসলেই কি তিনি ধন্য পুরুষ! গুটিকয়েক অকৃতজ্ঞ ছাড়া স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী কৃতজ্ঞ বাঙালির কাছে বঙ্গবন্ধু এক শ্রদ্ধাস্পদ বটবৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত। যাঁর ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতা, মহানুভবতা ও আদর্শ নেতৃত্বের কাছে হার মেনেছেন বিশ্বনেতারা। যে নামে সূর্যের আলোকরশ্মি দরাজকণ্ঠে তুলে সুর, বাদ্য বাজায় বর্ষার রিমঝিম শ্রাবণধারা। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বে বক প্রজাতির পক্ষীটাও ডানা ঝাপটায় চাঁদনী রাতের দবল হাওয়ায়Ñ সরিয়ে দেয় গায়ের ক্ষুদ্র বালিকণা। যাঁর সৃষ্টিতে লাল সবুজের উড়ন্ত কাপড় টুকরোটাও আনন্দের চলে নৃত্যে ভাসেÑ দেয় মুক্তির বারতা, গেয়ে যায় বীর বাঙালির বিজয় সঙ্গীত। কবিতার শিরোনাম ও কবির নিপুণ বর্ণনা সহজেই বুঝিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধু সত্যিকার অর্থেই একজন প্রবাদপুরুষ মহামানব।
হিমালয় চূড়ার সম উচ্চতায় খ্যাতির পাল উড়ানো গর্বিত মানুষটিকে সহজেই নিঃশেষ করে ফেলল ওরা! অথচ বিষাক্ত ছুবলের ফণাবাজ সর্পদল একটুও বিবেকতাড়িত হয়নি, কিঞ্চিত ভাবেনি মুক্তিদাতার বিশাল কর্মপরিধির কথা, বজ্রকণ্ঠের বজ্রধ্বনিও জাগাতে পারেনি লুপ্ত শ্রবণ শক্তিকে; শুধুই প্রাণ বধের কঠিন পিপাসায় মত্ত ছিল বর্বর কালকেউটেরা। হিং¯্র কিংবা নিকৃষ্ট প্রাণীকেও হার মানিয়েছে বাঙালি অসুরদের বীভৎসতা। বাঘ ক্ষুধার্ত হলেই শিকার খুঁজে, ভরাপেটে আকৃষ্ট হয় না হরিণের প্রতি; নাগরাজ আঘাত পেলে দংশন করে, বিনা কারণে অনাগ্রহী কারো ক্ষতিতে; শকুন তৃপ্তি পায় মৃত প্রাণে, জেন্ত দেহে অসম্মতি জানায় বাঁকা ঠোঁটের প্রয়োগ চালাতে; কুকুর তখনি মুনিবের প্রতি অসদাচরণ করে যখন তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। কিন্তু জাতির জনকের প্রতি যে নৃশংসতা চালিয়েছে ওই মানুষগুলো তাদের তুলনা করবেন কোন পশুর সাথে। ওরা কি কুকুরের মতো মস্তিষ্ক বিকৃত ছিল। না, সম্পূর্ণ সুস্থ দেহে, ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে হাজার বছরের বিরল মানুষটিকে। শুধু কি তাই, বুলেটবিদ্ধ অচেতন দেহের সামনে দাঁড়িয়ে ভিন্ন এক উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তারা। শত্রুপক্ষ ওইদিন জীবিত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও হত্যা করতে পারেনি তাঁর সৃষ্টিকে।
গণমানুষের এই মহানেতা লেখনী কিংবা বক্তব্যে তুলে ধরেছেন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি তাঁর ভাবনার কথা। ১৯৭৩ সালের ৩০ মে বঙ্গবন্ধু ডায়েরির পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়ে আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তা-ই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এ নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি ও অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’’ দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘‘আমি কী চাই? আমি চাই বাংলার মানুষ পেটভরে ভাত খাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ হেসে-খেলে বেড়াক। আমি কী চাই? আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণভরে হাসুক।’’
বঙ্গবন্ধু কি শুধু কথা আর বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তাঁর পঞ্চান্ন বছরের জীবনী পাঠ করলে প্রতীয়মান হয়Ñ বঙ্গবন্ধু যেন লক্ষ তারার মাঝে একটি চাঁদ। যাঁর জ্যোৎ¯œায় আলোকিত হয়েছিল পৃথিবী এবং মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাদ পেয়েছিল একটি জাতি। মানবব্রতী বঙ্গবন্ধু জন্ম দিয়ে যান বাঙালি জাতির তিন হাজার বছরের ইতিহাসে বঞ্চিত বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাইতো সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের লেখিয়ে মন মহানুভবতায় পূর্ণ মানবতাবাদী ওই মানুষটির নামের পাশে যুক্ত করছেন নানা অভিধা। আমেরিকার বিখ্যাত সাময়িকী নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি আর লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা তাঁকে বাংলার মুকুটহীন স¤্রাট বলে আখ্যায়িত করেছে। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিক সিরিলডন টাইম ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, ‘‘মাতৃভূমিকে পশ্চিম পাকিস্তানের একটি উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতার জন্য বর্তমানের চমকপ্রদ নাটকীয় যুদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে আসার ঘটনা শেখ মুজিবের এক দিনের ইতিহাস নয়, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি তাঁর লক্ষ্য ছিল।’’ পশ্চিম পাকিস্তানের কড়াল গ্রাসে বিপন্ন পূর্ব বাংলাকে শোষণহীন গন্তব্যে পৌঁছাতে লড়াই করেছেন বীরের মতো। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি কোনদিন। দুঃখী বাঙালির মুক্তিনেশায় ছিলেন অবিচল। মৃত্যুভয়ও টলাতে পারেনি তাঁকে। অসীম সাহসের অধিকারী বঙ্গবন্ধু যেন মানবতার এক বিস্ময় কবি।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়Ñ ‘বিশ্ব আজ দুইভাবে বিভক্তÑ শোষক ও শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে।’ বঙ্গবন্ধুর এই উক্তিটি শোষকদের প্রতি ছিল এক ধরনের সাবধান বার্তা। শোষণ-বঞ্চিত, নির্যাতিত-দুখী মানুষের পক্ষে ছিল বঙ্গবন্ধুর পরিস্কার অবস্থান। একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের মনে স্বাধীনতার বীজ বপন, গভীর দেশপ্রেম, বাঙালির প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা, জেল-জুলুম, নির্যাতন, ষড়যন্ত্রে পিছপা না হয়ে বরং সাহস, নিষ্ঠা, ত্যাগ, সততা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা দিয়ে মোকাবিলা করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর অনন্য রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। যাতে জয় হয়েছে বাঙালি তথা বিশ্বনেতাদের হৃদয় মন্দির।
কিউবার মহান নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করে গভীর মমতায় বলেছেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি।’ পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডন পৌঁছেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ তখন লন্ডনের বাইরে। বঙ্গবন্ধুর লন্ডনে আসার খবর পাওয়ামাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সব কর্মসূচি বাতিল করে লন্ডন ছুটে এসেছিলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য। বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী গাড়ি যখন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে থামল তখন একটি লোক বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে রইলেন যতক্ষণ না বঙ্গবন্ধু গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন। এই লোকটি আর কেউ নন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু যখন রাশিয়া সফর করেন তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দুটি রাষ্ট্রের একটি। সেই সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদগর্নি ও প্রধানমন্ত্রী কোসিগিন উভয়েই বিমানবন্দরে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানাতে। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও সৃষ্টিশীল কর্মই স্থান দিয়েছে মানুষের ভালোবাসার বিশাল গদিতে। তাঁর কর্মপরিধি নিয়ে ভাবলে মনে হয়, বঙ্গবন্ধু যেন মানবধাতু নয় ভিন্ন কোন ধাতু দিয়ে তৈরি ভিন গ্রহের বাসিন্দা। আর তাঁকেই বুঝি হত্যা করা হলো এভাবে!
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। অতীত হয়েছে একচল্লিশটি বছর। বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করবে জাতি। যাদের জন্য ত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এই অগ্নিমূর্তি, তাঁকে আমরা কতটুকু চিনতে পেরেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর বিশালতা যদি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করত ঘাতক দল তাহলে কি এমন নিষ্ঠুরভাবে গুলি চালাতে পারত তাঁর বুকে। পাষন্ড নরপিশাচরা না চিনলেও ফরাসি দার্শনিক আঁদ্রে মালরো সূক্ষ্মভাবে চিনেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে। ১৯৭৩ সালে মালরোর সঙ্গে আলোচনায় অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ আচমকা প্রশ্ন করেছিলেন, “মুজিব পারবেন তো একটি নতুন রাষ্ট্র তৈরি করতে?” তীক্ষè ত্বরিত জবাব এলো, ‘‘অবশ্যই, যদি না আপনারা শিক্ষিতরা, বুদ্ধিজীবীরা তাঁকে মেরে ফেলেন।’’ শেষ পর্যন্ত জাতির অকৃতজ্ঞ চরিত্রগুলোই মালরোর সন্দেহের সফল বাস্তবায়ন ঘটায় পঁচাত্তরের পনের আগস্ট। মিসরের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি নাসেরের সুহৃদ এবং বিখ্যাত ‘আল আহরাম’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ হেইকল বলেছিলেন, “প্রেসিডেন্ট নাসের যেমন সেক্যুলার আরব জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, তেমনি শেখ মুজিব প্রবক্তা ছিলেন সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদের। গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাঁর মতো রাজনৈতিক ভিশনের অধিকারী আরেকজন নেতা আমি দেখি না”। [সূত্র : বিভিন্ন বাংলা দৈনিক]
পিতা তোমায় সশ্রদ্ধ সালাম। তোমার সৃষ্টিতে মাথা নত হয়ে আসে। ঋণ শোধ করিব কি দিয়ে। তুমি যা দিলে, তার এক চিমটিও যে শোধরাতে পারিনি। ক্ষমা করো আমাদের, ক্ষমা করো জাতিকে। তোমাকে যে যোগ্য সম্মানটুকু দিতে পারিনি। দিকভ্রষ্ট যে জাতিকে তুমি পথ দেখালে সে জাতির অকৃতজ্ঞ সন্তানগুলোই হত্যা করেছে তোমায়। তোমার পাহাড়সম অর্জন নিয়ে টানাহেছড়ায় মত্ত রয়েছে কিছু অর্বাচিন। তুমি যে জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, ইতিহাসের মহানায়ক, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ এবং বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা, বিপ্লবের এক অমর কবিতা, চেতনায় অগ্নিমশাল যাই বলি তোমার পরিচয় তুমি, হে পিতা তুমি অতুলনীয়। যে যাই বলুক, তুমি যে বঙ্গবন্ধু, তোমার কাছে বাঙালি জাতি চিরঋণী। তুমি নতুন পৃথিবী রচিত করেছ, দিয়ে গেছ শান্তির বারতা, তোমার কর্মে বাংলা মা-ও যে মাথা নত করে। তোমাকে কি বলে যে সম্মান জানাব তার ভাষাও খোঁজে বের করতে পারছি না। এক কথায় তুমি অতুলনীয়।
লেখক: কলামিস্ট ও সিনিয়র গ্রাফিক্স ডিজাইনার, দৈনিক সিলেটের ডাক


