জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে তৃতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্র শিশু শুকুর আলম হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচিত হয়েছে। হত্যাকান্ডের মূলহোতা মামলার প্রধান আসামী নানু মিয়া বুধবার আদালতের স্বীরোক্তিমূলক জবাববন্দী প্রদান করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, শিশু শুকুর আলমের হত্যাকারী নানু মিয়া আদালতে ৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবাববন্দী দিয়েছে। সে এই খুনের সঙ্গে জড়িত। হত্যার কারণ হিসেবে সে জানায়, নিহত শিশুর বাবা মজর উদ্দিন প্রায় ৩ মাস পূর্বে তাকে উলঙ্গ করে পিটিয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে শিশু শুকুর কে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আসামীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো রক্তমাখা কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কান্দারগাঁও (নোয়াগাঁও) গ্রামের মজর উদ্দিনের সঙ্গে একই গ্রামের নানু মিয়া গংদের দীর্ঘদিন ধরে পূর্ববিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলছে। যার জের ধরে গত সোমবার দুপুরে মজর উদ্দিনের শিশুপুত্র স্থানীয় কামারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শুকুর আলম কে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশ গ্রামের হাওরে ফেলে দেয়।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মজর উদ্দিন বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মঙ্গলবার সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার দিন রাতেই থানার এস.আই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কান্দারগাও নোয়াগাঁও গ্রামের ইলিয়াস মিয়ার পুত্র নানু মিয়া, সুরুজ উল্লার পুত্র সুর ইসলাম ও আব্দুল হামিদের পুত্র রাসেল মিয়া কে গ্রেফতার করে। খুনের মূলহোতা নানু মিয়ার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ তার বাড়ি থেকে গত মঙ্গলবার হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো কাঁচি উদ্ধার করেছে।
নিহত শিশু শুকুর আলমের বাবা মজর উদ্দিন জানান, আমি আমার পুত্র হত্যার বিচার চাই। তিনি পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, পুলিশ খুব দ্রুত আমার ছেলের হত্যাকারী কয়েকজনকে গ্রেফতার করায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করি দ্রুত অপর আসামীকে গ্রেফতার করা হবে।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরছালিন জানান, গ্রেফতারকৃত ৩ আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


