জেলা পরিষদ নির্বাচন ১৫টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু

বিন্দু তালুকদার
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশরাফ হোসেন কিছু দিন আগে সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন স্থানীয় সরকার শাখার শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পর থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচন করার নানা উদ্যোগ। আগামী ডিসেম্বরের আগেই জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
একটি জেলা পরিষদ ১৫ সদস্য, ৫ জন সংরক্ষিত সদস্য ও ১ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিয়ে গঠিত হবে। নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় ১৫টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করার জন্য সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন জেলার ৮৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪টি পৌরসভাকে ১৫ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এই ওয়ার্ড তৈরির কারণে কারো কোন আপত্তি ও পরামর্শ থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তা জানাতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ১ নং ওয়ার্ডে  তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর), বড়দল (দক্ষিণ), বড়দল (উত্তর), বাদাঘাট (উত্তর), তাহিরপুর, বালিজুরী ইউনিয়নকে রাখা হয়েছে। ২ নং ওয়ার্ডে  মধ্যনগর থানার বংশীকুন্ডা (উত্তর), বংশীকুন্ডা (দক্ষিণ), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি, চামরদানী, মধ্যনগর ও তারিপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নকে রাখা হয়েছে। ৩ নং ওয়ার্ডে  ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ, ধর্মপাশা, জয়শ্রী, সুখাইড়
 রাজাপুর (দক্ষিণ), সুখাইড় রাজাপুর (উত্তর) ও  জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নে রাখা হয়েছে। ৪ নং ওয়ার্ডে  জামালগঞ্জ সদর , সাচনাবাজার, বেহেলী, ভীমখালী, সদর উপজেলার মোহনপুর ও দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়ন। ৫ নং ওয়ার্ডে  বিশ্বম্ভরপুরের সলুকাবাদ, পলাশ, ধনপুর, বাদাঘাট দক্ষিণ, ফতেপুরও সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন। ৬ নং ওয়ার্ডে  সুনামগঞ্জ পৌরসভা, জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা, রঙ্গারচর , মোল্লাপাড়া, লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ। ৭ নং ওয়ার্ডে  দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্বপাগলা, পশ্চিম পাগলা, জয়কলস, শিমুলবাক, পাথারিয়া ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়ন। ৮ নং ওয়ার্ডে দিরাই পৌরসভা, দিরাই-সরমঙ্গল, চরনারচর, রাজানগর, জগদল, করিমপুর, রফিনগর ইউনিয়ন।  ৯ নং ওয়ার্ডে  শাল্লা, বাহাড়া, হবিবপুর, আটগাঁও ও দিরাই উপজেলার তাড়ল ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন। ১০ নং ওয়ার্ডে জগন্নাথপুর পৌরসভা, চিলাউড়া-হলদিপুর, কলকলিয়া,  দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাওঁ ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন। ১১ নং ওয়ার্ডে  জগন্নাথপুরের পাইলগাঁও, রাণীগঞ্জ, আশারকান্দি, পাটলী, মীরপুর, সৈয়দপুর-শাহাড়পাড়া ইুইনয়ন। ১২ নং ওয়ার্ড দোয়ারাবাজারের মান্নারগাঁও, পান্ডারগাঁও, দোহালিয়া, ছাতকের চরমহল্লা, জাউয়াবাজার ও সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়ন। ১৩ নং ওয়ার্ডে দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার, লক্ষীপুর, বোগলাবাজার, সুরমা ইউনিয়ন। ১৪ নং ওয়ার্ডে  ছাতক, ছাতক পৌরসভা, ইসলামপুর, নোয়ারাই, কালারুকা, খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন। ১৫ নং ওয়ার্ডে  ছাতকের সিংচাপইড়, খুরমা (দক্ষিণ), দোলারবাজার, গবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা আফজলাবাদ, ভাতগাঁও ইউনিয়ন রয়েছে।
ওই ১৫ টি ওয়ার্ড থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল মেম্বার ও উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানগণ, পৌরসভা থাকলে পৌরসভার মেয়র, সকল কাউন্সিলরগণ ভোটের মাধ্যমে এক জন সদস্য নির্বাচন করবেন। এভাবে আবার তিনটি ওয়ার্ডের সকলে ভোট প্রদান করে একজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচন করবেন। তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিভাবে নির্বাচিত হবেন, কারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন এবিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায় নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিভাবে নির্বাচিত হবেন তা ভাল করে বলতে পারেন নি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। পরিষদের ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে কিছু তথ্য জানা গেছে। তবে চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে কি না, বা কিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন তার নির্দেশনা পাওয়া যায় নি। গণবিজ্ঞপ্তিতে যে ১৫টি ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে সেই ১৫টি ওয়ার্ড থেকে ১৫ জন সদস্য নির্বাচন করবেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরগণ। একইভাবে তিনটি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হবে।’