আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় দিনভর আলোচনার বিষয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু’র খুনি লে. কর্নেল আজিজ পাশা। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট ৩ টি পৃথক আলোচনা সভায় বলেন,‘আমি একটি নতুন তথ্য জেনেছি, আপনাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুবাজপুরের আজিজ পাশা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চার্জসিটভুক্ত ৭ নম্বর আসামী। স্বপরিবারে জিম্বাবুয়ে গিয়ে উনি মারা গেছেন। এই আজিজ পাশা বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুননেছাকেও মেরেছে। জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমনের মামাই এই লে. কর্নেল আজিজ পাশা’। তিনি আরো বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনি’র ভাগ্নেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মেনে নেওয়া যায় না, ক্ষমা করা যায় না। সুনামগঞ্জবাসী ক্ষমা করতে পারে না’।
বিকালে জেলা যুব লীগের আলোচনা সভায় আবারো নুরুল হুদা মুকুট একই ধরনের মন্তব্য করায় আলোচনা সভার প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এই প্রসঙ্গে বলেন,‘আমাদের জ্যেষ্ঠ নেতা নুরুল হুদা মুকুট ভয়ংকর কথা বলেছেন, এটা আমি আগে কখনো শুনিনি, আজিজ পাশা নামের একজন বঙ্গবন্ধুর খুনি রয়েছেন, একজন আজিজ পাশাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, তিনি উপ-সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। এই আজিজ পাশা যে বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার সাথে জড়িত, তা আমি জানি না, জগন্নাথপুরের কুবাজপুরে তার বাড়ি, এটিও আমি জানি না। আজ আমি ঢাকায় যাচ্ছি, খোঁজ খবর নিয়ে কাল ফিরে আসবো’।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমনের বড় ভাই ম্যাজিক কিডস্ টিভির চেয়ারম্যান ফজলুল কবির তুহিন বিকালে এ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন,‘আমার মামা মেজর আব্দুল মুকিত চৌধুরী’র ডাক নাম পাশা। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমর্থক সেনা কর্মকর্তার অভিযোগ এনে তাকে সেনাবাহিনী থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। পরে পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের ডিজি হিসাবে অবসরে যান তিনি। তিনি এখনো জীবিত, রাজধানী’র উত্তরা’র ১০ নম্বর সেক্টরের, ১১ নম্বর রোডের, ২৯ নম্বর বাড়িতে বসবাস করছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা নিয়ে অধিকতর তদন্ত হয়েছে, এই মামলা নিয়ে মিথ্যাচার করলে খুনিরা এবং তাদের সমর্থকরা উৎসাহিত হবে’। তিনি বলেন,‘১৯৭৩ ইংরেজি থেকে ৮৮ ইংরেজি পর্যন্ত আমার বাবা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৫ আগস্টে জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করার পর আমরা কত কষ্টে ছিলাম সুনামগঞ্জবাসী জানেন। আমরা উল্লাস করিনি’। সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও তার বড় ভাই অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন এ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন,‘আমাদের মামাকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা ইতিহাস বিকৃতির মধ্যে পড়ে, আইনী জটিলতাও আছে, লে. কর্ণেল আজিজকে বা তাঁর স্বজনদের বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে কী-না, এটিও আমাদের বোধগম্য নই’।
মেজর অব. আব্দুল মুকিত চৌধুরী বলেন,‘আওয়ামী লীগ এবং এই দলের তৎকালীন সময়ের নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও আব্দুর রইছ সাহেবের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকায় আমাকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কালে চাকুরি থেকে ছাটাই করা হয়। আমার সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করায় আমি মানহানির মামলা করতে পারি’।


