আসাদ মনি
শীতের এই সময়ে পাখির কলরবে ভরপুর থাকে টাঙ্গুয়া। তীব্র শীতের কবল থেকে বাঁচতে উত্তরের সাইবেরিয়া সহ আরো অনেক দেশ থেকে দলে দলে নানা প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বহু কাল ধরে অতিথি পাখিদের একটি বড় অংশ টাঙ্গুয়ায় আসত। কিন্তু নানা কারণে এখন পাখির আগমন কমে গেছে।
জানা যায়, রাতের বেলা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পাখি শিকার করে টাঙ্গুয়া হাওরে। সরকারি কঠোর আইন যেনো তাদের কাছে কিছুই না। আইন প্রয়োগকারী আনসারদের টাকা দিয়ে গোপনে পাখি শিকার করেন শিকারীরা।
পাখি শিকারের কৌশল সম্পর্কে জানা যায়, শিকারিরা ছোট নৌকায় করে পাখিদের বিচরণকৃত টাঙ্গুয়া হাওরের গভীরে প্রবেশ করেন। হাতে টর্চলাইট ও হাত্তর বা মগা (লম্বা হাতিয়ার) দিয়ে নৌকার সামনের অংশে দাঁড়াতে হয় শিকারিকে। পেছনে বৈঠা দিয়ে মাঝি নৌকা ঠেলে সামনে নিয়ে যান। পাখিদের উপরে টর্চলাইটের আলো পড়লে সামনে এগিয়ে আসে পাখির দল। তখন হাত্তর বা মগা দিয়ে মারা হয় পাখিকে। এভাবেই নিঃশব্দে পাখি শিকার করেন শিকারীরা। এছাড়াও সুতার ফাঁদ তৈরি করে পাখি শিকার হয়। প্রতিদিন রাত ১২ থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত চলে পাখি শিকার।
এদিকে গভীর এলাকায় হাঁসের ফার্ম দেয়ার কারণেও পাখিদের বিচরণ কমতির দিকে বলে জানান স্থানীয়রা। প্রতি হাঁসের ফার্মের মালিকের কাছ থেকে এজন্য আনসাররা সিজন (মৌসুম) প্রতি ৩০- ৪০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো টাঙ্গুয়া জুড়েই পাখি রয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট স্পটে পাখি বেশি রয়েছে। গোলাবাড়ির পেছনের অংশের স্পটগুলোতে পাখি বেশি রয়েছে। হাতিরগাঁতা, রউয়া, লেচ্ছচুয়া মারা, ছডাইন্না, বেরবেরিয়া, নোয়াল, কাজ্জুয়াউরি ইত্যাদি।
এসব এলাকায় পর্যটকদের নৌকা সরাসরি প্রবেশ করে না। সেজন্য পর্যটকদের কিছু অতিরিক্ত টাকা খরচা করতে হয়। ওয়াচ টাওয়ার থেকে ছোট নৌকা নিয়ে যেতে হয় ভেতরে। ছোট ছোট এসব নৌকায় ইঞ্জিন লাগানো রয়েছে। ইঞ্জিনের শব্দে পাখিদের স্বাভাবিক বসবাসে বিঘœ হয়। পর্যটক ও জেলেরা পাখিদের কাছাকাছি চলে যান।
সাধারণ মানুষ বলছেন, টাঙ্গুয়া হাওরের একটি নিদিষ্ট এলাকাকে পাখিদের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। পাখিদের অভয়াশ্রম এলাকায় জনচলাচলে বিধি নিষেধ দিতে হবে। হাসের ফার্ম দেয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। আনসারদের টাকা নিয়ে পাখি শিকার বন্ধ করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তৎপর হতে হবে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে টাঙ্গুয়াকে বাঁচাতে কৌশলী হতে হবে।
হাওর পাড়ের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের মো. আবুল খায়ের বলেন, হাসের ফার্মের কারণে পাখি এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে কম এসেছে। যেসব এলাকায় পাখি থাকতো সেই এলাকা হাঁস দখল করে আছে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগে যে পরিমাণ পাখি দেখেছি এখন আর তা দেখা যায় না। রাতের বেলায় পাখি শিকার করে শিকারীরা।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, কিছু অসাধু পাখি শিকারীর কারণে পূর্বের চেয়ে পাখি কমে গেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। টাঙ্গুয়ার পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে আমরা তৎপর রয়েছি। যে সব এলাকায় পাখি বাস করে সেসব এলাকায় ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও হাসের ফার্ম দেয়ার ব্যাপারে নিষেধ করবো আমরা।
- জুবিলী’র খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলা -নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন পৌর মেয়র
- জগন্নাথপুরের ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে বাধা নেই, মামলা খারিজ


