শাল্লা প্রতিনিধি
‘আমার বাবা এদেশের সবচেয়ে বড় রাজাকার ছিলেন’ বলে দম্ভুক্তিকারী জেলার অন্যতম রাজাকার শাল্লার উজানগাঁও গ্রামের রাজাকার আব্দুল খালেকের পুত্র আমেরিকা প্রবাসী জুবায়ের আহম্মেদ এলাকায় এসে ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করলে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন।
আগামী শুক্রবার এলাকায় আসার খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সোমবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুস সাত্তার, ইউপি চেয়ারম্যান আবু লেইছ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা ইহছাক মিয়া, সোলেমান মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু, যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী, অজয় তালুকদার, ফণি ভূষণ সরকার, দকবির হোসেন, সোহেল আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ চৌধুরী, শাল্লা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি দিপংকর তালুকদার স্বাগত, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কামান্ডের সভাপতি হাবিবুর রহমান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাস বলেন,‘রাজাকার পুত্র জুবায়ের আহম্মেদ এলাকায় আসলে কারো আপত্তি নেই। গত শনিবার হেলিকপ্টার নিয়ে এলাকায় এসে মোটরসাইকেল মহড়া ও তার বাবা শ্রেষ্ঠ রাজাকার বলে দম্ভুক্তি করায় জনরোষে পড়ে দ্রুত সটকে পড়েছিল। আমরা জানতে পেরেছি আগামী শুক্রবার সে আবারো এলাকায় আসবে। এলাকায় আসতে ও তার বাবার কবর জিয়ারত করতে কারো কোন বাধা নেই। কিন্তু কোন ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কটাক্ষ করে কিছু বললে ও কারো অনুভূতিতে আঘাত করলে তাকে প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, শাল্লার উজানগাঁও গ্রামের রাজাকার আব্দুল খালেকের পুত্র আমেরিকা প্রবাসী জুবায়ের আহম্মেদ শনিবার সকালে শাল্লায় হঠাৎ করে হেলিকপ্টারে এসে ঘোষণা দেন তার বাবা দেশের বড় রাজাকার। এদিকে তাঁর আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় আ.লীগ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। তাঁরা রাজাকারপুত্রকে দুই মিনিটের মধ্যে শাল্লা ছাড়ার নির্দেশনা দিলে হেলিকপ্টারে উঠার সময় জুবায়ের আহমদ একাত্তরে তার বাবার কৃতকর্মের জন্য গর্ব করে তার বাবাকে ‘শ্রেষ্ঠ রাজাকার’ হিসেবে পরিচয় দেন।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, রাজাকার আব্দুল খালেককে মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সনে শাল্লা সদরস্থ কলাকান্দি নদীরপাড়ে হত্যা করে তার লাশ নদীতে ফেলে দেন। বাবার কবর জিয়ারতের নামে প্রতি বছর এভাবে হেলিকপ্টারে এসে জুবায়ের আহম্মেদ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কথাবার্তা বলে যান বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে এবার জনরোষ দেখে দ্রুত সটকে পড়েন তিনি।


