দেড় বছরের মাথায় পাকা রাস্তায় ফাটল

শহীদ নূর আহমেদ
দেড় বছরের মাথায় ফাটল দেখা দিয়েছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ছয়হারা বাজার সংলগ্ন ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত টুকের বাজার-লালপুর-সলফ সড়কের পাকা রাস্তায়। প্রায় স্থানে  মাটি সরে  দেবে গেছে মুল পাকা সড়ক।  হালকা যানবাহনের চাপেই ভেঙ্গে যাচ্ছে সড়কের আরসিসি ঢালাই। রাস্তার এমন অবস্থায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। পাশাপাশি এলজিইডি কর্র্র্তৃপক্ষের তদারকিতে উদাসীনতার কথাও উঠে আসছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটির টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেলেও, সড়কটি পুনঃসংস্কার করে ঠিক করে দেয়া হবে বলে জানালেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলজিইডির  প্রকৌশলী আলাউদ্দিন খান।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলজিইডি  প্রকৌশলী সূত্রে জানা জায়, এসডিআরআইআইপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ছয়হারা বাজার সংলগ্ন টুকের বাজার-লালপুর-সলফ সড়কটির ২০১৫ সালে এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। ওই বছরের শেষের দিকে পাকা সড়কের কাজ শেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিশাল এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু নির্মাণের দেড় বছরের মাথায় পাকা সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়কের মধ্য ভাগে অনেক জায়গায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাটি সরে ভেঙ্গে গেছে আরসিসি ঢালাই।
পাকা সড়কের এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
সলফ গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘদিন পরে সলফের যাতায়াতের একটি সুব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু নি¤œমানের কাজ হওয়ায় অল্প দিনের মধ্যে পাকা সড়কে ফাটল ধরে গেছে। এই যদি হয় উন্নয়নের অবস্থা তাহলে দেশের উন্নতি হবে কীভাবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  মনির উদ্দিন বলেন, তৃণমুল এলাকার উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করছে। কিন্তু  মানসম্মত ভাবে কাজের বাস্তবায়ন  না হওয়ায় উন্নয়ন কাজ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এটি দুর্ভাগ্যজনক।
পূর্ববীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর কালাম বলেন, দেড় বছরের মধ্যে রাস্তায় ফাটল ধরেছে। এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের  কাজের গাফিলতি রয়েছে।
তাই তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি দেখার জন্যে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলজিইডি প্রকৌশলী আলাউদ্দিন খান বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের সিকিউরিটির টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। তবে রাস্তার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নতুন ভাবে রাস্তার সংস্কার করে দেয়া হবে।