ধর্মপাশায় ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীরা বিপাকে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রায় চার মাস ধরে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ী এবং তাদের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে কোনো ধর্মীয় এবং সামাজিক আচার অনুষ্ঠান না থাকায় ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন পড়েছেন বিপাকে অন্যদিকে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরাও হয়ে পড়েছেন বেকার। ফলে দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকায় তাঁরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উপজেলা ডেকোরেটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা, ধর্মপাশা উপজেলায় ৪০টির মতো ডেকোরেটর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ব্যবসার প্রধান উৎস ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে, জন্মদিন, সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, সভা, সমাবেশ। আর এসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিভিন্ন কাজে শতাধিক শ্রমিক নিয়োজিত ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে র্দীঘ সময় ডেকোরেটর ব্যবসা বন্ধ থাকায় মালিক ও শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা।
একতা ডেকোরেটর কারিগর শ্রমিক সমিতির সভাপতি আল-আমিন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে ডেকোরেটরের কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকায় আমার মতো অনেক কারিগর বেকার হয়ে পড়েছে। আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের যেন বিশেষ কোনো সহায়তা দেওয়া হয়।’
উপজেলা ডেকোরেটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে সরকার যদি আমাদের এককালীন একটি ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করেন তাহলে আমাদের ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে আনা যাবে। সেই সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান যদি করা যায় তবে আমরা আমাদের ব্যবসা ধরে রাখতে পারবো। এই বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
উপজেলা ডেকোরেটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে কষ্টকর হবে। ডেকোরেটরের মালামাল ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার না করার কারণে তা বিনষ্ট হচ্ছে। সরকার যদি কোনো বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এনে আমাদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন তবে আমরা কিছুটা রক্ষা পাবো।’