ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলাধীন মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার রাতে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, উপজেলার মধ্যনগর বিপি স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে গত ৩১জুলাই রোববার বিকেলে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বাউসাই গ্রামের নৃপেন্দ্র সরকারের ছেলে রিপন সরকারের (২৭) বিয়ে হয়েছে। এর আগে বাল্য বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে এ ধরনের খবরটি স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্নার মাধ্যমে মঙ্গলাচরণের আয়োজন বন্ধ করে দেন। কিন্তু সপ্তাহ যেতে না যেতেই রোববার রাত ১১টায় এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। ওই ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের প্রাণ কৃষ্ণ ভট্রাচার্য নামের এক পুরোহিত বিয়েটি পড়িয়েছেন।
পুরোহিত প্রাণ কৃষ্ণ ভট্রাচার্য বলেন, বিয়েতে বয়স নির্ধারণের জন্য জন্ম নিবন্ধন ও বিবাহ নিবন্ধন করাতে হয় তা আমার জানা ছিল না। জন্ম নিবন্ধন ছাড়াই আমি অনেক বিয়ে পড়িয়েছি।
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন, রাতে বাল্য বিয়ের খবরটি পাওয়ার পর আমি সাঁতার না জানার কারণে নৌকাযোগে সেখানে যাওয়ার সাহস পাইনি। আমি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এ বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে বললেও তাঁরা এ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি হননি।
মধ্যনগর থানার ওসি মাজহারুল হক বলেন, আমি ইউএনও স্যারের মাধ্যমে বাল্য বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্ত শেষ রক্ষা হয়নি।
মধ্যনগর বিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদার বলেন, ছাত্রীটি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওর বিয়ের বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। জানতে পারলে এ বাল্য বিয়ে বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো।
ইউএনও মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বাল্য বিয়ে আয়োজনের খবরটি আমি রাতে পেয়েছি। বিয়েটি বন্ধ করার জন্য মধ্যনগর থানার ওসি ও স্থানীয় ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বাল্য বিয়েটি হয়েছে বলে শুনেছি।


