স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন,‘ দেশব্যাপি নদী ভরাট ও নদী দখলের চিত্র ভয়াবহ। তবে নদী, পানি ও পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই সংবেদনশীল। দেশের নদী রক্ষায় কমিশন যা করার প্রয়োজন তাই করবে। নদীর দখল উচ্ছেদ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, টাস্কফোর্স ও প্রয়োজনে নদী আদালত করা হবে। পর্যায়ক্রমে নদীর সাথের সকল খাল খনন করা হবে। নদী ও খাল খননে হাওর প্রধান সুনামগঞ্জকে প্রাধান্য দেয়া হবে। জেলা-উপজেলা সকল নদী রক্ষা কমিটির সভা নিয়মিত করতে হবে। নদী রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন,‘ শুকনো মওসুমে নদীর পানি কমে গিয়ে অনেক এলাকার চাষাবাদে সমস্যা হয়, পাশাপাশি বর্ষায় অতিরিক্ত পানির জন্য বন্যা দেখা দেয়। তাই পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক রিজার্ভের ব্যবস্থা করতে হবে। হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় বাঁধ দিয়ে অকাল বন্যা ঠেকানোর পাশাপাশি হাওরে পানি প্র্রবাহের গতিপথ ঠিক রাখতে হবে। প্রকৃতি ও নদীর পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। ’
জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আলাউদ্দিন বলেন,‘ নদী নিয়ে জেলা-উপজেলায় নিয়মিত সভা হয় না। নদী নিয়ে কোন কাজকর্ম হচ্ছে না। নদীকে বাঁচানোর জন্য কোন উদ্যোগ নেই। নদী নিয়ে কেউ ভাবে না। নদীর সাখে খালগুলো বাঁচাতে হবে। নদী রক্ষা কমিটির সভা ও নদীর তথ্য উপাত্ত আমাদের জানাতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জেলা-উপজেলা কমিটিকে সহায়তা করবে।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া, জেলা স্থানীয় সরকার বিভঅগের উপ পরিচালক মো. এমরান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, অ্যাড. আলী আমজাদ, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, জেলা রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারী অ্যাড. মতিউর রহমান পীর, সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন সুপার সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম, দৈনিক আমাদেরসময়ের জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর শেলী চৌহান ময়না, উন্নয়নকর্র্মী মিজানুল হক সরকার প্রমুখ।


