Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
পনেরশ’ বসতবাড়ির চৌদ্দ’শ ছিয়ানব্বই টিরই ছাল ছুঁয়েছে/ খাদ্য ও পানি সংকট এলাকায় এলাকায় – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

পনেরশ’ বসতবাড়ির চৌদ্দ’শ ছিয়ানব্বই টিরই ছাল ছুঁয়েছে/ খাদ্য ও পানি সংকট এলাকায় এলাকায়

বিশেষ প্রতিনিধি
পনেরশ’ বসতবাড়ির চৌদ্দ’শ ছিয়ানব্বই টির ছাল ছুঁয়েছে পানি। সকলেরই ঘরের প্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র পানির নীচে। সাঁতার কেটে গরুগুলোকে নির্মণাধীন কয়েকটি ভবনের ছাদে নিয়ে আসার সময় ১০-১২ টি গরুও মারা গেছে। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার কালীপুর-হাছনবসত এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ দায়িত্বশীলরা গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতের বন্যার ভয়াবহতার বর্ণনায় এমন তথ্যই জানাচ্ছিলেন ।
রোববার বিকাল ৩ টায় নৌকায় করে গ্রামে ঢুকতেই নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে গরু’র ঘাষ (কচুরিপানা) দেবার সময় জয়নাল আবেদীন বললেন, দুই মহল্লার ১৫ শ বাড়ির ১৪৯৬ টিই ডুবেছে। গ্রামে কাউকে পাবেন না। যে দুয়েকজন আছেন, গরুগুলো দেখাশুনা করার জন্য এসেছেন।


জয়নাল আবেদীন বললেন, মহল্লায় আমার দোকান থেকেই অনেকে বাজার করতেন, দোকানটি দেখিয়ে বললেন, পানি সামান্য কমেছে, তাও দরজার উপরের চৌখাট পর্যন্ত পানি রয়েছে। মধ্যশহরে যাবার পথের কোথাও ঠাঁই নেই। শেষ পর্যন্ত মল্লিকপুরের নির্মাণাধীন একটি চারতলা ভবন, গ্রামের একজন মুক্তিযোদ্ধার তিনতলা ভবন এবং মল্লিকপুরের আরও দুটি ভবনে লোকজন ওঠেছেন। এখন সকলেই পড়েছেন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে। কোথাও টাকা দিয়েও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। বিশুদ্ধ পানিরও কোন ব্যবস্থা নেই। বানের পানিই ভরসা।
গ্রামের শফিক মিয়া ও আলেক মিয়াও একই ধরণের মন্তব্য করলেন। বললেন, এখন পর্যন্ত কেউই আমাদের খোঁজ নিতে আসেন নি। এই অবস্থা সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সকল গ্রামেরই।


এবারও সামনের সারির যোদ্ধা তিনি
গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন তার তিন তলা বাড়িতে প্রায় তিনশ’ বানভাসি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন। শুক্রবার থেকে তিনিই সাধ্যমত সকলের খাবারেরও ব্যবস্থা করেছেন।
এখানে আশ্রয় নেওয়া তাজুল ইসলাম, জরিনা বেগমসহ অন্যরা বললেন, খাবার-দাবার যা ছিল। সবই শেষ। বাজারে কিনতেও পাওয়া যাচ্ছে না খাবার। কেউ এসে আমাদের দেখেও যায় নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন বললেন, কাজটিকে আমি দায়িত্ব হিসাবেই দেখছি। কিন্তু এতো বানভাসিকে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে একা সহযোগিতা করা কঠিন। এখনো পর্যন্ত সরকারি বা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা মিলে নি।
এদিকে, শহরে সীমিত পরিমাণে পাওয়া খাদ্যপণ্য চিড়া, মুড়ি, বোতলজাত পানি, মোমবাতি, ডাল ও চালের দাম দ্বিগুন বেড়ে গেছে।
শহরের কালিবাড়ির শিপ্রা তালুকদার বলছিলেন, সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাস দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকায়ও বিক্রি করা হচ্ছে। তাও বিক্রেতা দয়া দাক্ষিণ্য করছেন বলে মনে হচ্ছে। একই মন্তব্য করলেন আরপিন নগরের মুনসুর আহমদ ও ওয়েজখালীর রানা মিয়া। রেষ্টুরেন্টগুলো সামান্য পরিমাণে খাবার তৈরি করলেও বেশি দামে বিক্রি করছে ।