বিন্দু তালুকদার
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলন সফল করতে পৃথকভাবে নিজেদের মত কাজ করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দ।
এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম।
অন্যদিকে জেলার ৫ জন সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার এম এনামুল কবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নান্টু রায়, প্রচার সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটনসহ আরো অনেকেই।
সম্মেলন ও নতুন জেলা কমিটি নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করছেন বিবাদমান দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। যদিও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ দু’টি সভানেত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের লোকদের দেয়া হবে বলে ধারনা রয়েছে, তবুও গ্রুপিং রাজনীতির কারণে নতুন কমিটিতে নিজেদের পক্ষের লোকজনকে অন্তর্ভূক্ত করতে নতুন প্যানেল গঠনের কাজ চলছে বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। তবে উভয় গ্রুপের দায়িত্বশীলরা দাবি করেছেন সম্মেলন নিয়ে তাঁরা কোন প্যানেল গঠন করছেন না।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট জানিয়েছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবেন নেত্রীর নির্দেশে। এবং সেটি ঘোষণা করবেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছাতক দোয়ারার এমপি মুহিবুর রহমান মানিক জানিয়েছেন, কাউন্সিলররা বসে যাকে নেতৃত্বে আসীন করবেন, তাদের নেতৃত্বেই জেলা আ.লীগ এগিয়ে যাবে।
দলীয় একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুটের নেতৃত্বাধিন নেতাকর্মীরা সর্বাত্বক চেষ্টা করছেন নতুন জেলা কমিটি পুরোটাই তাদের নিয়স্ত্রণে রাখতে। এই অংশের প্যানেলে সভাপতি পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি পদে পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল, সহ সভাপতি পদে সিদ্দিক আহমদ, অ্যাড. সুরেশ দাস, অ্যাড. রইছ উদ্দিন, অ্যাড. আলী আমজদ, অ্যাড. শফিকুল আলম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট, যুগ্ম সম্পাদক পদে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. অবনি মোহন দাস, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিছ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি সুবীর তালুকদার বাপ্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, সাবেক ছাত্র লীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা শংকর দাসের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলার ৫ জন সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার এম এনামুল কবিরের নেতৃত্বাধীন অংশের প্যানেলের সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছাতক দোয়ারার এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন, সহ সভাপতি পদে এমপি অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাস, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান আখঞ্জি, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ, ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহবায়ক লুৎফুর রহমান সরকুম, সাধারণ সম্পাদক পদে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. নান্টু রায়, অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুর রহমান সিরাজ, আওয়ামী লীগ নেতা পিপি অ্যাড. খায়রুল কবীর রুমেন, আমির হোসেন রেজা, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকি উজ্জ্বলের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে উভয় গ্রুপের প্যানেল তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন দলীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট বলেন,‘ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে কেউ প্যানেল গঠনের কাজ করতেই পারেন। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সম্মেলনের দিন নেত্রীর নির্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সুনামগঞ্জেই নতুন কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করবেন। নেত্রী যাকে ভাল মনে করবেন তাকেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করবেন। পরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সাথে আলাপ আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।’
জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছাতক দোয়ারার এমপি মুহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘ দীর্ঘদিন পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। পরিবতর্নের জন্য নেতাকর্মীরা অপেক্ষমাণ, পরিবর্তনের জন্য এসব আলোচনা হচ্ছে। কোনও প্যানেল গঠন বা ভোটাভোটির বিষয় নয়, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ, জেলা আ.লীগ ঐক্যবদ্ধ। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তারা পদলোভী নই। কাউন্সিলররা বসে যাকে নেতৃত্বে আসীন করবেন, যাকে সিদ্ধান্ত দিবেন তাদের নেতৃত্বেই আমরা এগিয়ে যাব। আমরা চাই সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী একটা ভিত্তির উপর দাঁড় হোক।’
- জাহাঙ্গীরনগর, সদর উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন জনগণের
- শেখ হাসিনার সঙ্গে ৫ নেতার সাক্ষাৎ ‘অগঠনতান্ত্রিক’ কাজের বিরুদ্ধে নালিশ

