প্রার্থী নির্ধারণে আ.লীগ এগিয়ে বিএনপিতে মতভিন্নতা

বিশেষ প্রতিনিধি
সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচন ২৩ এপ্রিল। আগামী রবি অথবা সোমবার উপজেলার ৯ ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা হবে। জেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাদেকুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার এই উপজেলার ৯ ইউনিয়নে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দলীয় সভানেত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি’র প্রার্থীতা নির্ধারণ এখনো হয়নি এই উপজেলায়। প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে দলের বিবদমান দুই গ্রুপ দুই ধরণের বক্তব্য দিচ্ছেন। দলের জেলা আহ্বায়ক বলেছেন,‘এই উপজেলায় প্রার্থী নির্ধারণ হবে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে, অপরাংশের নেতা উপজেলা আহ্বায়ক বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী আমরাই তালিকা করবো’।
জেলা বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
এরপর গত বছর দিরাই, শাল্লা, দিরাই পৌরসভা, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জগন্নাথপুর পৌরসভা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর  উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করে সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কোন কোন উপজেলায় বিক্ষুব্ধরা পাল্টা কমিটিও ঘোষণা করেছেন। সম্মেলন হয়নি ছাতক, দোয়ারাবাজার, ছাতক পৌরসভা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ পৌরসভায়।
এই অবস্থায় গত রোববার ও সোমবার দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে সংগঠনের বিবদমান দুই গ্রুপের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী। দুই পক্ষই পৃথক বৈঠকে একে অপরকে দোষারোপ করে বক্তব্য রেখেছেন।
প্রথম দিনের বৈঠকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড উপস্থাপনের সময় সদর উপজেলা বিএনপি নিস্ক্রিয়, কোনো ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হয়নি এই তথ্য দিয়েছেন। এই অবস্থায় দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা কে করবে এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন,‘সদর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি নিস্ক্রিয়, কোনো ইউনিয়নে নতুন কমিটি হয়নি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ইউনিয়ন কমিটির মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই হবার সুযোগ নেই এই উপজেলায়। কেন্দ্রের মতামত নিয়ে এই ৯ ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই হতে পারে। আমি উপজেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করতে হয় আমার, সদর উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে বিএনপি’র একাধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এই বিষয়ে আমার সহযোগিতা চাইলে, আমি তা করবো’।
সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থীদের তালিকা দ্রুতই তৈরি করা হবে উল্লেখ করে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর আলী বলেন,‘সদর উপজেলা বিএনপি নিস্ক্রিয়, এই তথ্য সঠিক নয়, কমিটি নেই এটিও ঠিক নয়। প্রত্যেক ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি আছে, আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা করে নবম সংসদের সাবেক সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে কেন্দ্রে তালিকা পাঠাব আমরা’। তিনি জানান, গণমাধ্যমে বিএনপি’র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণী বিষয়ে এধরণের নির্দেশনাই ছাপা হয়েছে।
সদর উপজেলা বিএনপির প্রথম সদস্য আসম খালেদ বলেন,‘নতুন কোন ইউনিয়ন কমিটি বা আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। এই বিষয়ে আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারা বলেছেন পুরাতন কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের মতামত, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও প্রথম সদস্য সুপারিশ করে জেলার দায়িত্বশীলদের অনুরোধ সহকারে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে, এটিই নির্দেশনা বলে জানি আমি’।
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘সদর উপজেলার কোন ইউনিয়নে কমিটি হয়নি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর আলী একা প্রার্থী তালিকা করার এখতিয়ার নেই। এই অবস্থায় এই উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে প্রার্থী মনোনয়ন হবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা নিয়ে’।