গত পরশু (মঙ্গলবার) ফেইসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহারের মাধ্যমে নানা ধরনের অপরাধকর্ম সংগঠনের উপর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রধান সংবাদ পরিবেশন করা হয়। ভুয়া ফেইসবুক আইডি অথবা জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির নানাবিধ অপব্যবহার রীতিমতো মানুষের মধ্যে আতংক তৈরি করেছে। ফেইসবুকে একাউন্ট খোলার পদ্ধতি এতোটাই সহজ যে যেকেউ ইচ্ছা করলেই একটি একাউন্ট খুলে ফেলতে পারেন। নিজের নামে পারেন, ছদ্মনামে পারেন আবার অন্যের ছবি ও নাম ব্যবহার করেও একটি একাউন্ট খুলে ফেলতে পারছেন অনায়াসে। ফলে ফেইসবুককেন্দ্রীক অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে সমাজের নানা স্তরে। সাম্প্রতিক আলোড়ন তৈরিকারী নাসিরনগর ঘটনা এর জলজ্ব্যন্ত প্রমাণ। এর আগে রামু ঘটনার ভয়াবহতাও সকলের মনে এখনও জাগ্রত রয়েছে। আপনি আমি সকলেই এমন কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি বা ফেসবুকে এমন কিছু পোস্ট বা একাউন্ট দেখেছি যা থেকে সহজেই ধারণা করা যায় ওইসব ফেসবুক একাউন্ট নিতান্তই ভুয়া। এগুলো খোলাই হয়েছে কিছু অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে। উদ্ভট নামসম্বলিত একাউন্ট থেকে প্রায়সই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চরিত্র হননকারী পোস্ট ও ছবি দেয়া যায়। মেয়েদের টার্গেট করে এইসব একাউন্ট থেকে অশালীন বিষয় ছড়ানো হয়। এইসব একাউন্টধারীদের পরিচয় জানা যায় না। পর্দার অন্তরালে থেকে এরা ফেসবুকের সহজগম্যতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে চলে নির্বিঘেœ। কী এর প্রতিকার? গত কয়েক বছর যাবৎ এতদসংক্রান্ত বহু তিক্ত অভিজ্ঞতার সন্মুখীন হলেও আমরা এর কোন সমাধানসূত্র পাইনি। খুব কমসংখ্যক ক্ষেত্রেই অপরাধ সংঘটনকারী ফেইসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তাই অনেকে নিজেদের ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট করে দিচ্ছেন অথবা ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। এই ধরনের সমাধান কখনও কাম্য না হলেও নিরিহ ও ভদ্রলোকদের পক্ষে ভার্চুয়াল এই জগৎ থেকে বিদায় নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ একাউন্ট খোলার বিষয়টিকে এত সহজলভ্য করে রেখেছেন কেন? ফেইসবুক যদি বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে করেও রাখে আমাদের বিটিআরসি কেন এখানে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে না, এটিও আরেক প্রশ্ন বটে। রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কিছু বিষয় হতে থাকবে এমনটি গ্রহণযোগ্য নয়। অবাধ তথ্যপ্রবাহের নামে এমন বল্গাহীন স্বাধীনতার এখনই রাশ টানা উচিৎ। ফেইসবুক একাউন্ট খুলতে একটি নির্দিষ্ট ই-মেইল একাউন্ট অথবা মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হয়। ফেইসবুকে একাউন্ট খোলার সময় একটি কোড নম্বর ব্যক্তির দেয়া মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজ আকারে পাঠানো হয়। ওই কোড নম্বর দিয়েই ফেইসবুক একাউন্ট খোলার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হয়। এখন দেশের মোবাইল নম্বরগুলো নিবন্ধিত আছে। সুতরাং কোন মোবাইল নম্বর থেকে কে ফেসবুক আইডি খুলছেন তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেটি বের করা খুব কঠিন বিষয় বলে আমরা মনে করি না। এখানে মোবাইল নিবন্ধনের সময় যেরকম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারের সহায়তা নেয়া হয়েছে ফেইসবুককে এরকম একটি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা যেতে পারে। ফেইসবুক একাউন্ট খোলার সময় ব্যক্তি যে মোবাইল নম্বর দিবে সেটি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের বা বিটিআরসির সার্ভারে যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়ে দিবে। বিটিআরসি যাচাইসাপেক্ষে ক্লিয়ারেন্স দিলে ফেসবুকটি এ্যাক্টিভেট হবে। তাহলে বিষয়টি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এতে করে কেউ ভুয়া নামে একাউন্ট খোলার সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর পরিচয় জানাও সহজ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে চালু একাউন্টগুলোকে পুননিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিতে হবে। প্রয়োজন হতে পারে আন্তর্জাতিক আইনের। বিষয়টি কি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন?
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম-৫ পুরানো যুগের ফার্নিচার ও আসবাবপত্র
- ছাতকের বাগবাড়ী মডেল স্কুলের বার্ষিক মিলাদ

