হোসেন তওফিক চৌধুরী
রমজানের রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ। ঈদ মুসলিম উম্মার জাতীয় উৎসব। ঈদুল ফিতরের দিন প্রতিটি মুসলমান নারী-পুরুষের জীবনে অশেষ তাৎপর্য ও মহিমায় অনন্য। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজানের মাসব্যাপী শাওয়ালের একফালি বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে পরম আনন্দ ও খুশীর ঈদ। ঈদ মানেই আনন্দ ও খুশী। আনন্দ ও খুশিই ঈদের সার্বজনীন রূপ। ঈদে ধনী-দরিদ্র, সুখী-অসুখী, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা সব মানুষের জন্য কোন না কোন ভাবে নির্মল আনন্দের আয়োজন। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। চলতি বোর মৌসুমে ব্যাপক ফসলহানি এবং অন্যান্য দৈব-দুর্যোগে ভাটি বাংলার মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম সংকট। সুনামগঞ্জ সহ ভাটি বাংলার প্রায় আটটি জেলায় চরম খাদ্যাভাব সহ অন্যান্য সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। এতে কোনমতে দৈনন্দিন জীবন যাপন ও জীবনের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মেটানো দু:সাধ্য হয়ে উঠেছে। ভাটি বাংলায় এখন অভূতপূর্ব দু:খ-কষ্ট, অভাব-দৈন্য এবং সর্বত্র আহাজারি বিদ্যমান। এমনি প্রাণান্তকর অবস্থায় এলো খুশীর ঈদ। ঈদের আগেই ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবার ঈদের কোন আনন্দ বার্তা নেই। ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ঈদের খুশীর কোন প্রতিফলন নেই। ঘরে-ঘরে দু:খ-কষ্ট ও বিপদ। কোন প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। তাই ভাটি বাংলায় এবারের ঈদ নিরানন্দের প্রতীক। ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে অনেক আগেই। তবুও ঈদ ঈদই। ঈদুল ফিতর তো বছরে একবারই আসে। ঈদের প্রতি মানুষের কোনও রাগ, গোস্বা ও ক্ষোভ নেই। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে আহলান-সাহলান। আন্তরিক অভিনন্দন। ঈদের নামাজে আজ সবাই স্বত:স্ফূর্ত ভাবে নামাজ করবে। নামাজের পর কোলাকুলি, কুশল বিনিময় হবে। নামাজে সবাই মুসকিল অবসানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া হবে।
লেখক: আইনজীবী ও কলামিষ্ট।


