স্টাফ রিপোর্টার
ভাটিপাড়া গ্রামের গ্রামের সঞ্জব আলীর ছেলে রশিদ মিয়া ঋণে জর্জরিত। ঋণের চাপে বৈশাখের ধান কাটা মাড়াই শেষে সিলেটে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী ও ৩ সন্তান নিয়ে তার পরিবার। বড় মেয়ে শাহিমাকে ৬ মাস আগে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট দুই ছেলে বাপ্পী (১৫) ও রিহান (৮)। অর্থাভাবে ৮ম শ্রেণির পরীক্ষা দিতে পারেনি বাপ্পী।
মঙ্গলবার রাতে ফোনে রশিদ বলেছিলেন, ছেলে বাপ্পীকে সিলেটে নিয়ে যাবেন। সেখানে যে কোনো দোকানে একটা চাকরি পাইয়ে দিবেন। তারপর বাপ-ছেলে মিলে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু বাপী আর তার বাবা রশিদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল রশিদসহ আরও অনেকের প্রাণ।
বাপ্পী কাঁদতে কাঁদতে বললো, ‘রাতে বাবা আমাকে সিলেটে উনার কাছে রাখবেন, আমাকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিবেন বলেছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনি বাবা আর নাই। মাবুদ- আল্লাহ্ একি করলেন।’
রশিদের স্ত্রী রাসিবা বেগমের আহাজারিতেও মর্মস্পর্সি পরিবেশ হয়েছিল গ্রামে, আহাজারি করে তিনি বলছিলেন, ‘আমার বাইচ্ছানতের মুখে খাওন দিব কে?’


