স্টাফ রিপোর্টার
করোনা পরিস্থিতিতে বালু-পাথর শ্রমিকেরা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চলতি নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন করে জীবন ধারণ করে আসছিলেন শ্রমিকেরা। করোনা পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। লকডাউন তুলে নেয়ার পর জন্ম-জন্মান্তরের পেশা ছেড়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নতুন পেশায় যেতে পারছেন না তারা।
এলাকার একাধিক শ্রমিক জানান, বেশি পরিমাণে শ্রমিক বেকার থাকায় জমি চাষাবাদ কাজেও সুযোগ পাচ্ছেন না। কোনো দোকানপাটেও তাদের কাজ করার সুযোগ নেই। নিজে কোনো ব্যবসা করারও টাকা পয়সা নেই। সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে এখন ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিবারের চাহিদা মেটাতে না পেরে হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমিকেরা। সরকারীভাবে ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তেমন সহায়তা দেয়া হচ্ছে না তাদের।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের বাসিন্দা রতন মিয়া (৩৬) জানান, তার পরিবারে রয়েছে স্বামী-স্ত্রীসহ ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। করোনা পরিস্থিতিতে বালু-পাথর শ্রমিকের কাজ বন্ধ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে নানা সমস্যায় পড়েছেন। কোনো কাজ না পাওয়ায় অবসর সময় পার
করছেন।
একই ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের আনন্দপাড়া এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়া (৩০) এর স্বামী-স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে রয়েছে। তিনি জানান, অভাব অনটনে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছেন। পরিবারের চাহিদা মেটাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা পাচ্ছেন না।
একই ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামের মাঝেরটেক এলাকার বাসিন্দা আক্রম আলী (৪২)। তাঁর পরিবারে রয়েছে স্বামী-স্ত্রী ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে। সবই স্কুলে লেখাপড়া করে। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকের কাজ না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামের মানিক মিয়া (৪০) স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ মেয়ে নিয়ে নানা কষ্টে দিনযাপন করছেন। তিনি জানান, করোনার ভয়াবহতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেকার। এতে অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ দিতে পারছেন না।
একই গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (৩৫) এর পরিবারে ৫ সদস্য, আমির হোসেন (৩০) এর পরিবারে রয়েছেন ২ জন, আবু তাহের (৪৫) এর পরিবারে ৭ জন, ফায়েজ মিয়ার পরিবারে ৭ জন নিয়ে নানা সমস্যায় রয়েছেন। তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে সহায় সম্পতি শেষ করে এখন ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। কোনো কাজে কেউ নিচ্ছেন না তাদের।


