আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে ২৩০ মিটার সড়ক তিন বছরেও সমাপ্ত করতে পারেনি এলজিইডি। দায়সারা নির্মাণকাজ করায় সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা অভিযোগ তুলেছে নির্মাণাধীন সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ২৩০ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুনামগঞ্জ কর্তৃক ২০১৮ সালে নির্মাণ করার জন্য কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ শহরের আমিনুল ইসলাম এন্ড কোং। নির্মাণাধীন কাজটি তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বাশে অবস্থিত। এটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে তাহিরপুর উপজেলা সদরে গাড়ী নিয়ে আসার একমাত্র সড়ক। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পর্যটক ও লোকজন সরাসরি গাড়ী নিয়ে তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসার একমাত্র সড়ক।
শনিবার সকাল বেলা পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে রাস্তাটি ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ একেবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় শনিবার সকাল থেকেই তাহিরপুরের মানুষ সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নির্মাণাধীন কাজটি চলমান অবস্থায় ২০১৮ সালের জুন মাসে বন্যায় সড়কটি ক্ষতি হলে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুনামগঞ্জ। অসম্পূর্ণ এ কাজটি পুনরায় নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুনামগঞ্জ একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩ কোটি টাকা সংশোধনী প্রাক্ষলন করে কার্যাদেশ প্রদান করে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে।
তাহিরপুর এলজিইডি অফিসের কার্য্যসহকারী শামীমুল ইসলাম বলেন, আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বংশের এপ্রোচ সড়ক মেরামতের নির্মাণ কাজের কার্যসহকারী হিসাবে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন আমাদের ডিজাইন মতো কাজ করে না। তারা তাদের মতো করে কাজ করেছিল। কাজের শুরুতেই আমরা বলেছিলাম সড়কের ঢালু অংশটি প্রথমে কাজ করার জন্য। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা না শুনে সড়কের উপরের অংশ থেকে কাজ শুরু করেছিল।
আমিনুল ইসলাম এন্ড কোং এর পক্ষে পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, লকডাউনের আগে সংশোধনী প্রাক্ষলন এর কার্যাদেশ পেয়েছি। তাই পুনরায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, নির্মাণাধীন সড়কের পাশে যাদুকাটা নদী। ওই নদী থেকেই বালু পাথর উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে থাকে। কোন অজুহাত দেখিয়ে নির্মাণ কাজে বিলম্ব দেখানোর বিষয়টি একেবারেই খামখেয়ালী। নির্মাণ কাজে এলজিইডির সীমাহীন দূর্নীতির চিত্র এলাকাবাসীর কাছে ফুটে উঠেছে। বিষয়টি তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিগণের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল জহুর বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ঠিকাদার ২৩০ মিটার সড়ক মেরামতের কাজ করে যাচ্ছে এখনো কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি এলজিইডি’র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুনামগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বলেন, কাজটি ২০১৮ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয়েছিল। বন্যায় ক্ষতি হওয়ার কারণে সংশোধনী প্রাক্ষলন করে লকডাউনের আগে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। এ জন্য কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, শনিবার সকালে সিলেটের উদ্দেশ্যে তিনি রওয়ানা হয়েছিলেন। আনোয়ারপুর সড়কের পূর্বাংশে সড়ক ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় তিনি গাড়ী নিয়ে পুনরায় তাহিরপুরে ফেরত আসছেন।
তিনি আরো বলেন, এলজিইডির কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য এ সড়কে চলাচলকারী লোকজন দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। সময়মত কাজটি করলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, রাস্তাটির বিষয়ে তিনি এলজিইডি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।


