ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগের কমিটি থাকার সুযোগ নেই। অথচ ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতিসহ সম্পাদক মন্ডলীর সাতজন সদস্য বিয়ে করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন কমিটি গঠনের সময় বিবাহিত কাউকে পদ দেওয়া যায় না। কিন্তু কমিটি হওয়ার পরে অনেকেই বিবাহ করতে পারে এবং তারা কমিটি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কমিটিতে থাকতে পারে- এমনটি নাকি ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে রয়েছে। তবে সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খান জানিয়েছেন ছাত্রলীগে থাকা অবস্থায় বিবাহ সংগঠনের গঠনতন্ত্র বহির্ভূত একটি কাজ।
২০১৮ সালের ২৪ জুন ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। এক বছর মেয়াদে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিকে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে সুষ্ঠুভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা কমিটি। এছাড়াও তাদের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশও ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছরে এ কমিটি মাত্র তিনটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে পেরেছে। এদিকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বিয়ে করেছেন। তবে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে প্রথমে বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তান নেই বলে দাবি করেন। পরে বিয়ে করেছেন ও তার ৫/৬ মাস বয়সী একটি শিশু কন্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। এছাড়াও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুজাত আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রিয়াদ, সাংগঠনিক শাকিল মাহমুদ খান, আমির উদ্দিন, মেহেদী হাসান বাবর, সাদ্দাম হোসেন সাগর, দপ্তর সম্পাদক ফারুক মিয়া বিয়ে করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আরমান আহমেদ। তিনি (আরমান) জানিয়েছেন এর ফলে সংগঠনের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। আর কমিটিও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাই দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করার জন্য জেলা কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ছাত্রলীগে থাকা অবস্থায় বিবাহ গঠনতন্ত্র বহির্ভূত জানিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খান বলেন, ‘কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সময় বিবাহিতদের বাদ দিয়ে তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কমিটি গঠনের সময় বিবাহিত কাউকে পদ দেওয়া যায় না। কমিটি হওয়ার পরে অনেকেই বিবাহ করতে পারে এবং তারা থাকতে পারে যতদিন কমিটি না ভেঙে যায়। আমরা তিনটি ইউনিয়ন কমিটি করেছি। কিন্তু করোনার কারণে অন্য ইউনিয়নের কমিটি ও উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন বলেন, ‘বিবাহিতদের ছাত্রলীগে থাকার সুযোগ নেই। আমরা ওই (ধর্মপাশা) উপজেলায় সম্মেলন দেওয়ার চেষ্টা করছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগস্টের পরপরই আমরা সম্মেলনের তারিখ দিয়ে দিবো। তখন বিবাহিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে।’


