বিন্দু তালুকদার
হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের কথা বললেই চলে হাওর ও হাওর পাড়ে শত প্রতিকুলতাকে উপেক্ষা করে বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম। বোরো ফসল উৎপাদনে ও ফসল গোলায় তোলা নিয়ে এ জেলার কৃষক সমাজের করতে হয় নানা লড়াই। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে প্রায় প্রতি বছরই ফসল ঘরে তোলে এখানকার কৃষকেরা। প্রকৃতি ও বৈরী আবহাওয়ার সাথে এ জেলার কৃষকদের লড়াই যুগ যুগের। চলতি বোরো মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত ও হাওরের জলাবন্ধতা নিয়ে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই ফসল রক্ষার যুদ্ধে নেমেছেন কৃষকরা।
এবার হাওর পাড়ের কৃষকদের লড়াই নিয়ে সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জাফর সিদ্দিক তাঁর ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন, ‘বানে মানুষে লড়াই, হাওরের প্রতিবছরের চিত্র। একযুগ আগে তাহিরপুরের তৎকালীন ইউএনও রনজিৎ প্রায় ভেসেই গিয়েছিল। সতর্কতা কাম্য।’
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের বাঁধের গর্ত দিয়ে পানি ঢুকা বন্ধ করার প্রচেষ্টা ও বাঁধের ছিদ্র বন্ধ করার কাজের একটি ছবি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দেখে এই কমেন্ট (মন্তব্য) করলেন জাফর সিদ্দিক।
‘হঠাৎ মাটিয়ান হাওরের বাঁধের গর্ত দিয়ে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে এ খবরে ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানের রণে ভঙ্গ দিয়ে হাওরে আসলাম। স্বেচ্ছাশ্রমে আত্মনিয়োগ করলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।’ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টা ২৯ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে ছবিসহ এমন একটি পোস্ট দিয়েছিলেন
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। এই পোস্ট দেখে সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জাফর সিদ্দিকসহ অনেকেই মন্তব্য করেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান ও শনি হাওরে থেমে থেমে কয়েক দফা শিলা বৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে বুধবার সন্ধায় ভূমিকম্প হওয়ার পর মাটিয়ান হাওরের বোয়াল মারার মেইন বাঁধে ফাটল ও নিচ দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয়। বাঁধের উপর ও নিচের ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকা বন্ধ করতে এলাকার কৃষকদের নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদোস আলম আখঞ্জি, তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বুরহান উদ্দিনসহ অনেকেই মাটি ফেলার চেষ্টা করেন। তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ওই বাঁধের ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকা একেবারে বন্ধ করা যায়নি। হাওরের বাঁধ ও ছিদ্র আটকানোর জন্য উপজেলার প্রতিটি বাজারে ও গ্রামের মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন,‘ মাটিয়ান হাওরের বোয়ালমারার বাঁধের নিচ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে খবর পেয়েই নববর্ষের অনুষ্ঠান ফেলে দৌঁড়ে হাওরে চলে যাই। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, থানার ওসি সাহেব, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরো অনেকেই খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় আমরা বাঁধের নিচের ছিদ্রটি বন্ধ করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুটা রোধ করা হয়েছে। আগের চেয়ে পানি কম ঢুকছে কিন্তু ছিদ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এখন হাওরে বাঁধে কাজ করানোর জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হওয়ায় শ্রমিক ও কৃষকরা হাওরে যেতে যায় না। কৃষকরা জমির প্রতি মায়া-মমতা হারিয়ে ফেলেছেন। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। ’
- ভীমখালি বাজার ইজারা ইজারাদারের অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশাসন বললেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা
- দোয়ারার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হেলে পড়ল পাশের ভবনের উপর


