বৌলাই নদীর জামালগঞ্জ উপজেলার শ্রীমন্তপুর অংশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পড়ায় কয়েক শ’ বালু পাথরবাহী নৌকা ও বাল্কহেড আটকা পড়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, প্রায় সপ্তাহখানেক যাবৎ এই অবস্থা চলতে থাকলেও নৌপথ চলাচলের যোগ্য করার জন্য সরকারি কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। আটকে পড়া নৌকার শ্রমিক ও মালিকরা নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করার পাশাপাশি বিপুল লোকসানের সন্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এসব নৌকা ফাজিলুপুর ও ট্যাকেরঘাট থেকে বালু, পাথর ও কয়লা বোঝাই করে আসছিল। বৌলাই পাড় হয়ে সুরমা নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা ছিল এসব মালবাহী নৌযানের গন্তব্য। মাল বোঝাই নৌকায় কয়েকটি কাত হয়ে পড়েছে এবং এগুলো উলটে যেতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন নৌশ্রমিকরা। পলিভরাট বৌলাই থেকে সুরমা নদীর দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। সুরমা নদীতে ঢুকতে পারলেই নৌযানগুলো যে যার গন্তব্যে চলে যেতে পারত। বলা যায় তীরে এসে তরী ডুবার মতো অবস্থা হয়েছে নৌযানগুলোর। সুনামগঞ্জে বিআইডব্লিউটিসির কোন অফিস না থাকায় নদীসহ যাবতীয় পানিপথ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর বর্তায় বলেই আমরা ধরে নিতে পারি। কিন্তু শ্রীমন্তপুর এলাকার এই সমস্যা সমাধানে তাদের কোন তৎপরতাই নেই বলে বুঝা যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো কয়েক কোটি টাকার মালামালসহ অনেকগুলো নৌযান আটকে পড়ার খবরটি নাকি তারা জানেনই না। এটি দুঃখজনক। আমাদের দেশে চর পড়ে বা তলদেশ ভরাট হয়ে নদীপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নতুন কোন বিষয় নয়। আরিচা বা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এরকম ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ খনন করতে বিআইডব্লিউটিসির ড্রেজার সার্বক্ষণিক কাজ করার বিষয়টি আমরা সকলেই জানি। বৌলাই নদীর তিন কিলোমিটার অংশ খনন করে আটকে পড়া যানগুলোকে যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়া কঠিন কোন কাজ নয় বলে আমরা মনে করি। সুনামগঞ্জে কিছু ড্রেজার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে বলে অনেকেই বলে থাকেন। এর যেকোন একটি অকুস্থলে নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা উচিৎ ছিলো পাউবোর। সরকারি অর্থায়নে এটি করা সম্ভব না হলেও পাউবো আটকে পড়া নৌযানগুলো থেকেই খরচ নিয়ে এই কাজটি করে দিতে পারেন। আর সরকারি অর্থ খরচ করলেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। আপৎকালীন সংকট মোকাবিলার জন্য জরুরি তহবিলের অস্তিত্ব রয়েছে সরকারি প্রশাসনে।
বালু, পাথর ও কয়লা সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের অন্যতম উপাদান। অর্থনৈতিকভাবে অতিগুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলোকে নির্বিঘœ রাখা সকলের দায়িত্ব। কিন্তু কেন জানি সুনামগঞ্জের নদীপথগুলো সর্বদাই নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়েই চলতে দেখছি আমরা। চাঁদাবাজির ভয়াবহতার খবর সকলের জানা। এখন সম্পূর্ণ নতুন উপসর্গ যুক্ত হলো বৌলাই নদীর নাব্যতার সংকটটি। মূলত আমাদের সবগুলো নদীর তলদেশই বালু ও পলি পড়ে গভীরতা হারিয়েছে। পাহাড়ি ও শাখা নদীগুলো শুকনা মৌসুমে বন্ধ হয়ে পড়ে। নদীর নাব্যতা হারানোর সাথে অত্রাঞ্চলের অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ফসল হানির বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা ফসলকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সবসময় নদী খননের উপর গুরুত্ব দেন। কিন্তু কার্যত জেলায় নদী খননের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। পাহাড়ি ও শাখা নদীগুলো সারা বছর নাব্য থাকলে অকাল বন্যা রোধ হওয়ার পাশাপাশি অর্থকরী পণ্য পরিবহনে সক্ষম থাকতো। আপাতত শ্রীমন্তপুরের নদী ভরাটের বিষয়টি জরুরিভিত্তিতে সমাধানের জন্য আমরা পাউবোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

