বয়স্ক ভাতার টাকা যায় ইউপি সদস্যের ভাইয়ের নম্বরে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিল্পী আক্তারের বিরুদ্ধে এক নারীর বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে একই ইউনিয়নের আনোয়ারা বেগম নামে এক নারী এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগম নামের ওই নারী শিল্পী আক্তারের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। পরে আনোয়ারা বেগম জানতে পারেন তার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু তার মোবাইল নম্বরে ভাতার টাকা না আসায় তিনি সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তিনি সেখানে দেখতে পান তার (আনোয়ারার) মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে অন্য একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নম্বরটি শিল্পী আক্তারের ছোট ভাই কালা মিয়ার। আর সেই নম্বরে তিন বার ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা এসেছে। পরে তিনি মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন।
অভিযুক্ত শিল্পী আক্তার বলেন, আনোয়ারার স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বামীর বয়স্ক ভাতার কার্ড আনোয়ারার নামে করে দেই। কিন্তু আনোয়ারার মোবাইল পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে হওয়ায় অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় ভুলে তাড়াহুড়া করে আমার ছোট ভাইয়ের নম্বর দিয়েছিলাম। এটি আনোয়ারকে বলতে মনে নেই। আমার ছোট ভাইয়ের নম্বরে দুইবার টাকা এসেছে, তিনবার নয়। এখন সেই টাকা ফেরত দিতে চাইলেও আনোয়ারা নিচ্ছেন না।
ইউপি সদস্য শিল্পী আক্তারের ছোট ভাইয়ের মুঠোফোন নম্বরে তিনবারে ৪ হাজার ৫০০ টাকা গিয়েছে জানিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিল্পী আক্তার যে নম্বর দিয়েছিল তাতেই টাকা গেছে। আনোয়ারা এসে বিষয়টি জানানোর পর মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইউপি সদস্য এমনটি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।