ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশ্ব ভারতীতে শহীদ মিনার

সু.খবর ডেস্ক
বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রাণ দিয়েছেন সালাম, রফিক, বরকতসহ অনেকে। তাদের স্মৃতিতে শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন চত্বরে গড়ে উঠবে শহীদ মিনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছেমতোই সেটি গড়ে তোলা হবে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে।
আগামী বছর ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই সেটি তৈরি হয়ে যাবে। সেখানে বাংলাদেশের পড়ুয়ারা ছাড়াও শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রী ও ভাষাপ্রেমীরা শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি সেখানে যে গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হচ্ছে সেখানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং কাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বই থাকছে। গবেষকরা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যও পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ভবনটিতে।
সেখানে সুবিশাল গ্রন্থাগার ছাড়াও থাকছে আন্তর্জাতিক মানের একটি কনভেনশন সেন্টার। ভবনের প্রবেশদ্বারের দুই প্রান্তে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি মুরালও বসানো হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ভবন সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ ভবন তৈরির প্রথম যে নকশা বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছিল, তাতে শহীদ মিনার ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি যেখানে তুলে ধরা হচ্ছে সেই বাংলাদেশ ভবনে ভাষা শহিদদের কথা না থাকলে চলে! তাই গত এপ্রিলে শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর শান্তিনিকেতনে এসে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান, বাংলাদেশ ভবন চত্বরে একটি শহীদ মিনার গড়ার। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব পেয়ে তা অনুমোদনও করেছে। বাংলাদেশ উপ দূতাবাসকে জানানো হয়েছে, অতি দ্রুত সেটি গড়ে ফেলা হবে। আর তা করা হবে আগামী বছর ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই।
২৫ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তিনিকেতনের এই বাংলাদেশ ভবনের দ্বার উন্মোচন করবেন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দেওয়া ২ বিঘা জমির ওপর ২৫ কোটি টাকা খরচে গড়ে তোলা প্রায় ৪ হাজার বর্গফুটের এই ভবনে থাকছে একটি সংগ্রহশালাও। সেখানে শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রীর প্রতিলিপি ও প্রতিকৃতি থাকছে। থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও দর্শন বিষয়ক নানা তথ্য ও ছবি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি ছবির গ্যালারিও থাকবে।