ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় যথেষ্ট পরিমাণ কম্পিউটার ও আনুষাঙ্গিক সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, সরকার ওই উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে জেলার ১১ উপজেলার প্রায় ১০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কম্পিউটার সামগ্রী সমৃদ্ধ করেন। কিন্তু ওই সংবাদ থেকে দুর্ভাগ্যজনক যে তথ্যটি জানা যায় সেটি হলো অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ল্যাবই সারা বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারের কম্পিউটার সামগ্রী সরবরাহ করার উদ্দেশ্য মাঠে মারা পড়েছে। কেন বন্ধ থাকছে ওইসব কম্পিউটার ল্যাব? দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বর্ণিত সংবাদ অনুসারে সরবরাহকৃত কম্পিউটারের একটি বড় অংশ নষ্ট হওয়ার পর মেরামতের উদ্যোগ না নেয়া অথবা মেরামতের তহবিল সংকট, পর্যাপ্ত জায়গার স্বল্পতা, কম্পিউটার অপেক্ষা শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়া, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের স্বল্পতা, ইন্টারনেট সংযোগের ধীর গতি, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা; ইত্যাদি কারণে এইসব কম্পিউটার ল্যাব শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রাযুক্তিক উৎকর্ষতা সাধনে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
অথচ অবস্থা এমন না যে, শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহার শিখতে চাচ্ছে না। বাস্তব অবস্থা বরং এর ঠিক উল্টো। কম্পিউটার শিখায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনেক বেশি। এর প্রমাণ মিলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আয়োজন করলে সেখানে আগ্রহী প্রার্থীদের ভিড়। সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে, সরকার সম্ভাব্য সকল উপায়ে সহযোগিতা জুগিয়ে যাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের প্রচ- আগ্রহ রয়েছে, তদুপরি কেন এই ল্যাবগুলো কার্যকর থাকছে না? গুরুতর প্রশ্ন বটে। মাঝখানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই দায় এড়াতে পারবেন না কিছুতেই। ব্যবস্থাপনাগত কারণেই এইসব মূল্যবান ল্যাবগুলো অকেজো পড়ে আছে এবং ব্যবহার না করার কারণে মূল্যবান সামগ্রীগুলো বিনষ্ট হচ্ছে বলেই আমাদের ধারণা। এই ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা অবশ্যই কাটিয়ে উঠতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
শিক্ষার মান ও পরিমাণ এই জেলায় ক্রমহ্রাসমান। সর্বশেষ গত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল এর উদাহরণ। শিক্ষায় এই অধোগমনের পিছনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমান পাঠক্রমে একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথ্য প্রযুক্তির সহায়ক কম্পিউটার ল্যাবগুলো অকেজো থাকাই এর বড় প্রমাণ। আমরা মনে করি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকম-লী এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি একটু দায়িত্বশীল হলে ল্যাবগুলো পরিচালনা করা কঠিন কোন কাজ হত না। এখন যে সংকটগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলো অনায়াশেই কাটিয়ে উঠা যেত।
উন্নততর চিন্তা থেকে এখন বলা হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করার কথা। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান কম্পিউটার ল্যাবগুলোর দুরাবস্থা দেখে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার চিন্তা করা সংগত হবে কি? অথচ শিক্ষাকে কাক্সিক্ষত মান ও স্থানে নিতে হলে কম্পিউটার নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে দ্রুত যেতে হবে। তাই যে একশ’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব বা কম্পিউটার সামগ্রী রয়েছে সেগুলোকে কার্যকর করার জায়গায় দ্রুত উন্নতি করতে হবে। এই কাজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরকারি দপ্তরগুলোকেও তৎপর হতে হবে। আমরা কামনা করি জেলার সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ল্যাব দ্রুতই কাক্সিক্ষত শিক্ষা সেবা দানে সক্ষম হয়ে উঠুক।

