মানিকপুরে লিচুর বাম্পার ফলন

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার ও ছাতক দুই উপজেলার গ্রাম একটি। সেটি হলো লিচুর গ্রাম মানিকপুর। গ্রামের এক অংশ ছাতকে আর অন্য অংশ দোয়ারাবাজারে অবস্থিত। এই গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মানিকপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গড়ে উঠা একেকটি লিচু বাগান দেখলেই মন জুড়ায়। দুই উপজেলার গ্রামটি ছাতক নোয়ারাই ইউনিয়নে একভাগ, আর অন্যভাগ দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে। মানিকপুরের লিচু গাছগুলো সুন্দর করে সাজানো গোছানো করে লাগানো, দেখলে যে কারো মন জুড়ায়। লিচুর ভারে গাছগুলো নুয়ে গেছে। লিচু না খেলে কেউ বুঝবে না যে মানিকপুরের লিচু এত স্বাদ।
বাজারে বিক্রেতারা মানিকপুরের লিচুর নাম শুনলেই একটু বেশি দামে কিনে নেন। কারণ একটাই, মানিকপুরের লিচু সুস্বাদু। গ্রামের লিচু চাষিরা ভোর হলেই টুকরি সাজিয়ে মাথায় বহন করে চৌমুনি বাজারে সারিবদ্ধ ভাবে বসে থাকেন পাইকারের (ক্রেতাদের) অপেক্ষায়। মানিকপুরের লিচু জেলার প্রতিটি উপজেলার বড় বড় হাটবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলে জানা যায়।
গ্রামের দোয়ারাবাজার উপজেলা অংশের লিচু চাষি মজনু মিয়া, আব্দুর রশিদ,আব্দুল্লাহ, সুনাম উদ্দিন, আলিম উদ্দিন,ইসলাম উদ্দিন, আলতাব মিয়া এবং ছাতক অংশের চাষী আবুল কাশেম,  রইছ মিয়া, বাদল মিয়া, মৌলানা আবু হানিফ, আরব আলী, জামাল উদ্দিন বাহার, সফিকুন নুর,আন ফর মিয়া,মোহাম্মদ আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার লিচুর ফলন ভাল হয়েছে তবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে শিলা বৃষ্টিতে।  এছাড়ও ক্ষতি করছে পাহাড়ী চামচিকা ও কলা বাঁদুরের আক্রমণে। চাষীরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় দূরের কোন বাজারে যেতে পারেন না তারা। তাই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লিচু চাষীরা। এত কষ্ট করে ফলানো লিচুর সঠিক মুল্য থেকে বঞ্চিত হন তারা শুধুমাত্র খারাপ রাস্তার কারণে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে রাতজেগে পাহাড়া দিতে হয় বাঁদুর তাড়ানোর জন্য। রাতে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন এলাকার লিচু চাষীরা। গ্রামের চাষীদের দাবি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলে প্রতিটি গাছে বিদ্যুতের আলো লাগানো যেত। গাছে আলো জ্বালানো থাকলে বাদুরের উপদ্রব কমে যেত।
গ্রামবাসীর দাবি শুধুই বিদ্যুৎ আর ভাল সড়ক যোগাযোগ থাকলে মানিকপুরের লিচু সারা দেশে সরবরাহ করা যেত। ফলনের সাথে সঠিক মুল্য পেতেন চাষীরা।