‘মুজিব মানে বাংলাদেশ’

স্টাফ রিপোর্টার
স্বাধীনতা বিরোধীরা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চায় ইতিহাস থেকে। এজন্য নানা পেশার মানুষদের ধরে মগজ ধোলাই দেয়া হয়। মুছে ফেলা হয় রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। আর তখনই সৈয়দ শামসুল হক- এর কবিতা ‘এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান? যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান’ লাইন উচ্চারিত হতে থাকে চারদিকে। অশুভ শক্তি বিদায় নেয় মঞ্চ থেকে।
বঙ্গবন্ধু আবহমান বাংলার চিরকালের প্রাণপ্রবাহ। তেরশত নদীর ছোট্ট বদ্বীপ এই বঙ্গভূমি ‘বাংলাদেশ’ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতির পিতার সুমহান আত্মত্যাগ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর ঘাতকের দল তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতা বিরোধী অশুভ শক্তির দল চেয়েছিল এই বঙ্গভূমি থেকে বঙ্গবঙ্গুর নাম চিরতরে মুছে ফেলতে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শারীরিক মৃত্যু হলেও তাঁর চেতনার মৃত্যু হয়নি। তিনি চিরদিনের জন্য, চিরকালের জন্য জাগ্রত, জীবন্ত। তিনি ছিলেন আছেন এবং থাকবেন জাতীয় চেতনার উৎসমূলে। তাঁর চেতনার সোনার বাংলার বাঙালির পথ চলার প্রেরণা। এমনই ভাবনায় আবর্তিত হয়েছে নাটক ‘বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ’।
শুক্রবার রাতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় পঁচাত্তর পরবর্তী পট পরিবর্তন নিয়ে নাটক ‘বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ’ প্রদর্শিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে দেড় ঘন্টাব্যাপী মঞ্চস্থ হওয়া নাটকটি রচনা করেছেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী। নির্দেশনায় ছিলেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, শিল্প নির্দেশক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক সুবীর মহাজন। সহ নির্দেশক ছিলেন সামির পল্লব ও মেহেদী হাসান। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন সামির পল্লব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, পুলক রাজ, তূর্জ রাজ, হাফিজুর রহমান, তুষ্টি তালুকদার, প্রমি তালকদার, পল্লব ভট্টাচার্য্য, রাইয়ান রাফি, দীপঙ্কর দে, আশীষ বর্মণ, মৌমিতা বিশ^াস, মো. আমজাদ হোসেন, শিপা আক্তার, ঝর্ণা আক্তার, শাহ জুনায়েদ আলম সৃজন, ইয়াছির আহমদ জাওয়াদ, মৌলী তালুকদার, অংকিতা তালুকদার দিয়া, রবিউল ইসলাম পুলক।
নাটকের আগে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আলী আমজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামছুল আবেদীন প্রমুখ।
এদিকে দিনব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টায় সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বেলা ১১টায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ১.৩০মিনিটে হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিকাল ৩টায় সুনামগঞ্জ মহিলা কল্যাণ কেন্দ্রে মহিলাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা সভা ও ক্রীড়ানুষ্ঠান, বিকাল সাড়ে ৩টায় সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে কাবাডি প্রতিযোগিতা, বিকাল ৪টায় জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী নানান কর্মসূচি পালন করেছে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে চিত্রাংকন প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে গত ১৭ মার্চ সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ১২২ জন ক্ষুদে শিল্পীর চিত্র নিয়ে রিভারভিউ এলাকায় চিত্রাংকন প্রদর্শনী ‘শিশুদের চোখে বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ পৌরসভা চত্ত্বরে এই পুরস্কার বিতরণের আগে পৌর মেয়র নাদের বখত’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মো. চাঁন মিয়া, সাবেক আইনজীবী সমিতির সাধারণ অ্যাড. শুকুর আলী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও জেলা ছাত্রীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুমান বখত পলিন, পৌর আ.লীগের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম।
পৌর আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকতুল ইসলাম শওকতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দপ্তর সম্পাদক লিটন সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জন্টু রায়, জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, ছাত্রলীগ সাবেক সহ-সভাপতি নিহার তালুকদার, যুবলীগ নেতা শুভ বণিক। পরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ৪৪৮ জনের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।