Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
যৌথ চাষাবাদের চিন্তা একটি গণমুখী ভাবনা – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

যৌথ চাষাবাদের চিন্তা একটি গণমুখী ভাবনা

কালেকটিভ কালটিভেশন বা যৌথ চাষাবাদের ব্যবস্থা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। রবিবার ঢাকায় বিআরডিবি’র পল্লী পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই আহবান জানিয়ে বলেন, খণ্ড খণ্ড চাষাবাদের চাইতে যৌথ চাষাবাদে খরচ অর্ধেক, লাভ বেশি। কো-অপারেটিভ ম্যানেজম্যান্টের মাধ্যমে এই যৌথ চাষাবাদ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী। দেশে যখন কৃষি জমির পরিমাণ প্রতিবছর কমে আসছে তখন মন্ত্রীর এই আহ্বান অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, ভাগ হতে হতে আমাদের কৃষি জমিগুলো প্রতিনয়ত ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হচ্ছে। একজনের জমি আরেক জনের জমি থেকে পৃথক করতে গিয়ে চার পাশে দিতে হচ্ছে আল। এই আলের কারণে দেশের একটি বড় পরিমাণ চাষযোগ্য জমি কমে গিয়েছে। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম, বাংলাদেশের কৃষি জমির সকল আল তোলে দেয়া হলে বগুড়া জেলার সমপরিমাণ জমি বাড়ানো সম্ভব। এখন নিশ্চয়ই আলের পরিমাণ বেড়েছে। সুতরাং কোনো উপায়ে এই আল তোলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন নিঃসন্দেহে বাড়বে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে চাষাবাদের ব্যয় বেশি। অনেক সময় চাষাবাদের যান্ত্রিক সুবিধা ব্যবহার করা যায় না জমির ছোট আকৃতির কারণে। এই জায়গায় যদি যৌথ চাষাবাদ ব্যবস্থা চালু করা যায় তাহলে সকলেরই লাভ। এলজিআরডি মন্ত্রী যৌথ চাষাবাদের যে চিন্তা করেছেন সেটি আমাদের কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সমবায় ব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। বাংলাদেশের সংবিধানে এর স্বীকৃতি দেয়া আছে। সমবায় পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়ে কৃষি ও ক্ষুদ্র সেক্টরে উন্নয়নের বহু নজির অতীত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের চোখের সামনে রয়েছে। কিন্তু সমবায় পদ্ধতির একটি বড় দুর্বলতা হলো, এর ব্যবস্থাপনায় বিশাল দুর্নীতির অনুপ্রবেশ। শুধু দুর্নীতিজনিত কারণে সমবায় পদ্ধতিতে গড়ে উঠা বহু গণমুখী কর্মসূচির অকাল মৃত্যুও আমরা দেখেছি। তাই এই পদ্ধতিতে উন্নয়নের সুফল পেতে হলে অবশ্যই দুর্নীতির ভুতকে সরানোর কৌশল বের করতে হবে সবার আগে। কালেকটিভ এপ্রোচ বা যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তরিকতা দিয়ে এই ভুতও তাড়ানো সম্ভব। এজন্য সমবায় পদ্ধতিকে আমলাতান্ত্রিকতার জাল থেকে বের করে অধিকতর গণতান্ত্রিক করতে হবে। সুবিধাভোগীরাই যাবতীয় নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হবেন, সরকার শুধু দেখবেন নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে কিনা; এই পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটানো গেলে সমবায় পদ্ধতিকে আমরা উন্নয়নের রোল-মডেল হিসাবে সামনে নিয়ে আসতে পারব।
যৌথ চাষাবাদের ক্ষেত্রে জমির ক্ষুদ্র ও মাঝারী মালিকদের সংগঠিত করা ও তাদের কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তারা যখন এই আস্থা রাখতে পারবেন যে, যৌথ খামারে জমি দেয়া হলে তিনি ঠিকমত তার ন্যায্য হিস্যা পাবেন তখন আর কেউ নারাজি হবেন না। এই যৌথ উদ্যোগ শুধু কৃষি উৎপাদনেই নয় বরং পল্লীর অপরাপর ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ ঘটানোর সুুেযাগ রয়েছে। আমাদের গ্রামগুলো এখনও খুব অবিন্যস্ত, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। শুধু আবাসিক ঘর-বাড়ির জন্যই বহু জায়গার অপচয় ঘটে চলেছে। সমবায় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে এক বা একাধিক উর্দ্ধমুখী ফ্লাট তৈরি করে আবাসনের ব্যবস্থা করা গেলে বহু জমি চাষাবাদের আওতায় সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। সমাজে এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার যে জাতি-বিনাশী মানসিকতা গড়ে উঠছে সেখানে একটা যৌথ ও সহযোগিতামূলক সমাজ গড়ে উঠবে। একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাইলে আমাদের অবশ্যই বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে যৌথতার পথে হাঁটতে হবে। এলজিআরডি মন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছেন আশা করি সরকার এ নিয়ে কার্যকর চিন্তা-ভাবনা করবেন।