রমজান উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য রহমত

মাওলানা ক্বারী গোলাম মাওলা (মানিক)
আলহামদুলিল্লাহ! সকল তারিফ ও গুণগান কেবলমাত্র এক আল্লাহরই। যিনি আমাদের সামনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কল্যাণময় মাস রমজান হাজির করেছেন। এই মাসের অসংখ্য কল্যাণ রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি কল্যাণ আমি নিম্নে লিপিবদ্ধ করিতেছি।
হাদীস: হযরত সালমান (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) একবার শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে লোক সকল! একটি মহান পূণ্যময় মাস তোমাদের উপর ছায়াপাত করেছে। এটি এমন মাস যার প্রথম অংশ রহমত, দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাত ও শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি। (আত তারগীব আয়াত তাবহীব)। এই মাসটি যে রহমতের তা তার নামের মধ্যেই প্রকাশ পায়।  
হাদীস: হযরত উমর (রা:) বলেছেন, আমি হযরত রাসুলুল্লাহ (সা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম রমজান মাসের ফজিলত কি? তিনি বললেন, রমজান মোবারককে তৌরিতে হাত্ব, ইনজিলে ত্বাব, যবুরে কোরবত এবং কোরআন মজীদের রমজান বলা হয়। অর্থাৎ হাত্ব এর অর্থ গুনাহকে নষ্ট করিয়া দেওয়া। উহাকে ত্বাব এই জন্য বলা হয় যে, এই মাসে রোজাদার পবিত্র হইয়া যায়। কোরবত এই জন্য বলা হয় যে, এই পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহর সহিত বান্দার একান্ত নৈকট্য লাভ হয়। রমজান রমজ ধাতু হইতে গৃহীত হয়েছে। হেমন্তকালের প্রথমভাগে যে বৃষ্টিপাত হয়, আরবগণ তাহাকে রমজ বলে এবং উহাতে রহমত নাজিল হয়। যেহেতু রমজান মাসে অসংখ্য রহমত নাযিল হয়। এই জন্যে এই মাসকে রমজান মাস বলে।  
হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রহমত সমূহ।
(১)    রমজান মাসে মুমিন বান্দাদের রিজিক প্রশস্ত হয়।
(২)    ধনজন বৃদ্ধি হয়।
(৩)    যাহা কিছু এই মাসের মধ্যে খাওয়া হয়, তাহা আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে গণ্য হয়।
(৪)    এবাদত ও নেক কাজ ইত্যাদি দ্বিগুণ বৃদ্ধি করিয়া দেওয়া হয়। এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, আদম সন্তানের সকল আমল তারই জন্য এবং এ গুলোতে দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব দেওয়া হয়।
(৫)    আসমান জামিনের ফেরেস্তা তাহার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।
(৬)    সমস্ত শয়তান বন্দি হয়।
(৭)    রহমতের দরজা খুব প্রশস্ত হয়।
(৮)    বেহেশতের দরজা খুলিয়া দেওয়া হয়, দোজখের দরজা বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়।
(৯)    রমজানের প্রত্যেক রাত্রে সাত লক্ষ গুনাগারকে জাহান্নাম হতে মুক্তি করিয়া দেওয়া হয়।
(১০) রমজানের প্রত্যেক শুক্রবার রাত্রে এই পরিমাণ গুণাহগার আজাদ করা হয়। যেই পরিমাণ সাত দিনে আজাদ হয়।
(১১) রমজানের শেষ রাত্রে সমস্ত মানুষের সমুদয় গুনাহ মাফ করিয়া দেওয়া হয়।
(১০)    প্রত্যেহ মুমিন রোজাদারদের জন্য বেহেশত সজ্জিত করা হয়।
(১১)    রোজাদারদের দোয়া কবুল হয়।
(১২)    আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। (আমালিয়তে কুরআন) (চলবে)