আসাদ মনি
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ চার ছাত্র মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে সবার বায়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন শহীদ গিয়াস উদ্দিন। বন্ধুরা তাকে ‘‘লেলিন’’ বলে ডাকতো। কলেজ হেঁটে যাবার সময়ও থাকতো বগলে বই। মার্কসবাদ লেনিনবাদ নিয়ে বন্ধুদের মাঝে তাত্ত্বিক আলোচনা করতেন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
শহীদ গিয়াসের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীধরপাশা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিক উদ্দিন। ১৯৬৭ সনে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি কলেজে বিএ ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জুনের শেষ দিকে তিনি যুদ্ধে অংশ নেন। তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া গ্রুপের মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান সংগঠক ছিলেন।
শহীদ গিয়াস উদ্দিন ৫ নম্বর বালাট সাব সেক্টরের আবু হেনা চৌধুরীর প্লাটুনে যুদ্ধ করেছেন। দিরাইয়ের নলুয়া-গোজাবিলে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে একশনে নামেন তিনি। পাক আর্মিদের গুলিবৃষ্টির মুখে গিয়াসের সহযোদ্ধারা পিছু হঠলেও একাই তিনি ফায়ার করতে করতে সামনে এগুতে থাকেন। ওখানে গ্রেনেড চার্জ করতে গিয়ে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর শবে বরাতের রাতে শহীদ হন। এই দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার লাশ আরে খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শহীদ গিয়াস উদ্দিনের সহযোদ্ধা ও সহপাঠি বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, শহীদ গিয়াস ছিল অসম্ভব মেধাবী। কলেজ ক্যম্পাসের বাইরে সে মার্কস-লেলিনের বিপ্লবের বই বগলদাবা করে ঘোরতো। লাল মলাটের বিপ্লবের গোপন চটি বই থাকতো তার পকেটে। এজন্য আমরা তাকে লেলিন বলে ডাকতাম। অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর অসম্ভব ভক্ত আমাদের এই লেলিন মহান মুক্তযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছে। তার সাংগঠনিক প্রজ্ঞা ছিল ঈর্ষানীয়। মার্কস-এঙ্গেলস এর রক্তে আগুন ধরানো বৈপ্লবিক উক্তি ছিল তার মুখস্ত।
পশ্চিম পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ বৈষম্য থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করতে বিপ্লবের অপেক্ষায় ছিলেন লেলিন নামে পরিচিত শহীদ গিয়াস উদ্দিন। অবশেষে বিপ্লবের ডাক দিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যোগ দিলেন মুক্তিযুদ্ধে। দেশমাতৃকার জন্য নিজের তাজা রক্ত দিলেন। আমাদের জন্য রেখে গেলেন এক স্বাধীন দেশ।
চলবে।


