সুব্রত দাস খোকন, শাল্লা
ভাটি এলাকার একসময়কার ঐতিহ্য এবং বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল জ্যৈষ্ঠ মাসে গ্রামে গ্রামে ফুটবলানন্দে মেতে উঠা। বর্ষায় বিকেলে গ্রামের উঠোনে কাবাডি কাবাডি সুরে হাডুডু খেলা আর সন্ধ্যার পর মাসব্যাপি যাত্রার রিহার্সেলে অংশ নেওয়া। সময়ের বিবর্তনে এসব শুধুই অতীত। কিন্তু এবৎসর প্রকৃতি অনুকুলে থাকায় এবং অসময়ে পানি না আসায় গ্রাম বাংলার পুরনো ঐতিহ্য ফুটবল আবার চেনা রূপে ফিরে এসেছে। প্রায় প্রতিদিনই শাল্লার কোনো না কোনো গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিযোগীতামুলক ফুটবল খেলা। ভাটির জনপদ শাল্লার হাওরপাড়ের কৃষক ধান গোলায় তোলার পর অবসরের বিনোদনের মাধ্যম ওই ফুটবল দেখতে প্রতিটি মাঠে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম হচ্ছে।
বিগত ১০ দিন শাল্লার বিভিন্ন গ্রামে ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে এবং ফুটবল সংগঠকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবৎসর সোনার বৈশাখী হওয়াতে এবং ধানের মূল্য ভাল হওয়াতে সর্বোপরি জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুটবল মাঠ পানিতে না ডুবার কারণে গ্রাম বাংলার মানুষ তাদের প্রিয় খেলা ফুটবল আয়োজন করছে। প্রতিটি ফুটবল আসরই ১২/১৬ টিমের মধ্যে হচ্ছে। তাই প্রতিদিন শাল্লার কোনো না কোনো মাঠে প্রতিযোগীতামূলক ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রতিটি খেলা দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটছে।
ইতিমধ্যে শাল্লার দামপুর, সহদেবপাশা হবিবপুরের আগুয়াই গ্রামে চলমান ১৬ টিমের ফুটবললীগের ফাইনাল গত সোম, মঙ্গল ও শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনটি ফাইনালেই সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের খেলোয়াড়ের পাশাপাশি বিদেশী খেলোয়াড়ের আগমন ঘটেছিল। লীগ চলমান রয়েছে মৌরাপুর, ভাটগাও, মুক্তারপুর, নিয়ামতপুর, চাকুয়া, আঙ্গারুয়া, সুখলাইন ইত্যাদি গ্রামে অর্থ্যাৎ শাল্লার প্রায় প্রতিটি গ্রামের ফুটবল মাঠেই চলছে ফুটবল উৎসব।
কথা হয় ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ব হেমসেন, বিজিত, সুদীপ্ত, হাবিব ও অরবিন্দুর সাথে উনারা বলেন, ভাটি এলাকার ফুটবল মৌসুম বলতে জ্যৈষ্ঠ মাসকে বোঝায়। অসময়ে পানি না আসাতে প্রতিটি গ্রামেই ফুটবল খেলার আয়োজন হচ্ছে। প্রতিটি আসরই পরবর্তীতে বড় হয়ে যায়। এতবড় খেলা কিন্তু প্রশিক্ষিত রেপারির অভাবে প্রায়ই খেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি হয়। এলাকার একমাত্র রেফারী কালিপদ রায়। তাকে তো একা সবমাঠ কভার করা সম্ভব না। তাই ক্রীড়া সংস্থা থেকে প্রশিক্ষিত রেফারী তৈরি করতে হবে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কালিপদ রায় বলেন, আমি খেলা পাগল মানুষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শাল্লার প্রতিটি গ্রামেই ফুটবলের আসর বসছে। মানুষ বিনোদন পাচ্ছে। আমরা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির স্যারের নেতৃত্বে বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে প্রায় পনের দিন ৮০ টি গ্রামে গিয়ে ১৬০ টির মতো ফুটবল, ত্রিশ সেট জার্সি দশ জোড়া বুট ও হ্যান্ডগ্লাভস খেলোয়াড়দের মধ্যে স্যার নিজে বিতরণ করেন। যুবক ভাইদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেছেন।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, যুব সমাজকে বিপদগামীতা থেকে রক্ষা করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে উৎসাহিত করতে হবে।
- দ. সুনামগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ
- ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা


