শাল্লা প্রতিনিধি
শাল্লা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাসের উপর সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় ডুমরা থেকে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে আসার সময় রাস্তায় ওৎপেতে থাকা বিন্দু, বাদল, জুয়েল, হিল্লোলসহ আরো ১২-১৩ অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাসের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে স্থানীয় জনতা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বেলা সাড়ে ১২টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
তাকে প্রেরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, গত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাঁর উপর ক্ষুব্ধ রয়েছে একটি বিশেষ মহল। তারা কখনো জায়গা নিয়ে, কখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে, কখনো বা রাস্তা বন্ধ করে অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাসকে হয়রানি করে আসছে।
জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাসসহ তাঁর আত্মীয় স্বজন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে রেখেছিল ওই মহলটি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল’র হস্তক্ষেপে ৭ ডিসেম্বর বন্ধ রাস্তা খুলে দেয়া হয়।
অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, আশপাশের লোকজন এগিয়ে না এলে আমার প্রাণ সংশয়ের আশংকা ছিলো।
শাল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ বলেন, আমার কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস হামলার স্বীকার হয়েছেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের উপর এমন অমানবিক হামলার নিন্দা জানাই।
এদিকে অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাসের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে উপজেলার সর্বত্র। অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস শাল্লা উপজেলা শাখার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শাল্লা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব বলে জানা যায়।
শাল্লা থানার ওসি বজলার রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে।


