শাল্লায় মেম্বারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লা সদরে নিরীহ পরিবারের ৫২ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে এলাকার প্রভাবশালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে। দিনভর চেষ্টা করে মাটি ভরাট ঠেকাতে পারেন নি জমির মালিক রাস বিহারী দাসসহ গ্রামের বাসিন্দারা। সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী হস্তক্ষেপে জমিতে মাটি ভরাট বন্ধ হলেও ভয়ে-আতঙ্কে রয়েছেন জমির মালিক রাস বিহারী দাস ও তার স্বজনরা।
রাস বিহারী দাসসহ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শাল্লা সদরের কান্দখলা গ্রামের পশ্চিমহাটি সংলগ্ন ২৩৭ নম্বর খতিয়ানে নতুন ছয় দাগের ৫২ শতাংশ জমি ১৯৯৫ সালে রাস বিহারী দাসের মা প্রয়াত ¯েœহলতা দাসের নামে বন্দোবস্ত নেন রাস বিহারী দাসের বাবা রাজ মোহন দাস। এই জমি বর্তমানে রাস বিহারী দাসের দখলে। তিনি খাজনাও নিয়মিত দিয়ে আসছেন।
শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে চারটি ট্রলি লাগিয়ে এই জমিতে মাটি ভরাট শুরু করেন শাল্লা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজ মিয়া। রাস বিহারী দাস এসময় মাটি ভরাটে বাধা দেন। গ্রামের গণ্যমান্যরা মাটি ভরাট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।
ইউপি সদস্য সিরাজ মিয়া রাস বিহারী দাসকে ধমক ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিদায় করে দেন। রাস বিহারী দাস পরে থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। পরে ঘটনাস্থলে এসআই আলিমের নেতৃত্বে পুলিশ যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই সিরাজ মিয়া রাস বিহারী দাসকে ধমক দেন। এক পর্যায়ে সিরাজ মিয়া এসআই আলিমকে বলেন, আমি মাটি ভরাট করছি, করবো, কাগজেপত্র জমি রাস বিহারী দাস পেলে, মাটিসহ জমি তাকে দিয়ে দেব।
সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী’র হস্তক্ষেপে মাটি ভরাট বন্ধ হয় এবং দুইপক্ষের কাগজ দেখার সিদ্ধান্ত হয়।
রাস বিহারী দাস বললেন, আমরা নিরীহ মানুষ, যেকোন সময় কাগজপত্র নিয়ে বসতে আমাদের কোন বাধা নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সিরাজ মিয়া বললেন, জমিটি কান্দকলা গ্রামের গ্রামের প্রসেন কুমার দাসের কাছ থেকে ছয় মাস আগে কিনে মালিক আমি। আমার জমিতে আমি মাটি ভরাট করছি। বন্দোবস্তের জমি বিক্রয় হয় কিভাবে? আপনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এটি কিভাবে কিনলেন, রেজিস্ট্রি হলো কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি সদস্য সিরাজ বললেন, দেশজুড়েই বন্দোবস্তের জমি স্টাম্পের মাধ্যমে কেনা বেচা হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী বললেন, আমি শাল্লায় নেই, আমি ইউপি সদস্য সিরাজ মিয়াকে জানিয়ে দিয়েছি, আমি আসার আগে পর্যন্ত মাটি ভরাট বন্ধ রাখতে। আমি এসে দুইপক্ষকে নিয়ে বসে এটি সমাধান দেওয়া হবে।