শিক্ষার্থীর ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহীন আলমের ওপর স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্র জনতার ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শাহীন উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াবন্দ বাগারবাড়ির মৃত হিরণ আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের উকিলপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কে হামলার শিকার হয় শাহীন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, রোকন উদ্দিন বেপারী, সোহানুর রহমানসহ আরো অনেকেই।
সপ্তাহ দুয়েক আগে শাহীনের সাথে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে নোয়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম কডু মিয়ার ছেলে নাজমুলের (১৮) বাকবিতন্ডা হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে নাজমুলসহ উকিলপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ূনের ছেলে রাব্বি মিয়া (২০) ও আলী আকবরের ছেলে মহিবুর (১৭), নোয়াবন্দ গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আমান (১৮), হলিদাকান্দা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে মিলন মিয়া শাহীনের ওপর খুর, ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। এতে শাহীনের পিঠ মারাত্মকাভাবে জখম হয়। আহত শাহীন ঘটনার পর থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত আমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নয়ন মিয়া ও ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করবে— থানায় এমন মুচলেকা দিয়ে আমানকে মুক্ত করে নেয়। কিন্তু আমানকে নিয়ে আসার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
আহত শিক্ষার্থী শাহীন জানায়, ‘নাজমুল, রাব্বি, আমান আমার ওপর হামলা করে আর মহিবুর ও মিলন তাদের সাথে ছিল।’
শাহীনের বড় ভাই সোহানুর রহমান বলেন, ‘আমি থানায় লিখতভাবে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু নয়ন মিয়া ও আবুল কাশেম বিষয়টি শেষ করার আশ্বাস দিয়ে আমানকে ছাড়িয়ে নেয়। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’
অভিযুক্ত আমানের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না। আগের একটি ঘটনায় তার নামে অভিযোগ করা হয়েছে।’
ইউপি সদস্য নয়ন মিয়া বলেন, ‘যারা হামলা করেছে তারা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। বিষয়টি শেষ করার জন্য চেষ্টা চলছে। তবে তারা (অভিযুক্তরা) এতে কর্ণপাত করছে না।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আজকালের মধ্যে শেষ না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’