বিন্দু তালুকদার
অবকাঠামো সংকটে ভোগছে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। প্রয়োজনীয় কক্ষ না থাকায় বিচার কার্য সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। যার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হন বিচার প্রার্থীরা। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর থেকেই এই অবস্থা বিরাজ করছে।
২০১৩ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পূর্ব দিকে ৮ম তলা বিশিষ্ট পৃথক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন তৈরি করতে ১ একর ৭৩ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে ভবন নির্মাণ হচ্ছে না।
২০১৪ সালে ৮ম তলা বিশিষ্ট পৃথক জুডিসিয়াল আদালত ভবন তৈরি করতে ৩৬ কোটি বরাদ্দ অনুমোদন হলেও ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ভবন নির্মাণ না করায় বরাদ্দ ফেরত গেছে। অধিগ্রহণকৃত জমিতে কবে পৃথক জুডিসিয়াল আদালত ভবন তৈরি হবে জানেন না কেউ।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর থেকেই সুনামগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫টি এজলাস ও ৫টি খাস খামরা রয়েছে। অতীতে ৫জন বিচারক ৫টি এজলাসে বসতেন। কিন্তু বর্তমানে এই আদালতে ৫টি এজলাস ও ৫টি খাস খামরায় ৮ জন বিচারক বিচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে করে বিচারকগণ একসাথে বিচার কার্য পরিচালনা করতে পারছেন না। একটি এজলাসে একজন বিচারক আদালতের কার্যক্রম শেষ করে নামার কিছুক্ষণ পরে আরেকজন বিচারক বিচার কার্য শুরু করেন। একইভাবে ৫টি খাস খামরায় ৮ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পালা করে বসছেন। এভাবেই মাসের মাস বছরের পর বছর ধরে চলছে বিচার ও বিচার সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম।
ভবন সংকটের কারণে সঠিক সময়ে বিচার কার্য পরিচালিত না হওয়ায় দিরাই-শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জের লোকজন আদালতের কাজ শেষে সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেন না। রাস্তায় অনেকের সন্ধ্যা হয়ে যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে শহরের আবাসিক হোটেলে থাকতে হয়।
শুধু বিচার কার্য করার এজলাস ও খাস খামরারই সংকট নয়, প্রশাসনিক কাজকর্ম করতেও অবকাঠামো সংকটে ভোগছেন সবাই। পৃথক ভবন ও কক্ষ না থাকায় ইটের বেড়া দিয়ে নেজারত ও সরবরাহ (চিঠিপত্র ডেসপাস) শাখাকে পৃথক করা হয়েছে ভবনের উত্তর দিকের বারান্দায়।
ভবন ও কক্ষ সংকট থাকায় একই ভাবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার করা সম্ভব হচ্ছে না (দুগ্ধবতী বা প্রসূতি মায়ের বসা ও শিশুদের দুধ পান করানোর) । বিচার প্রার্থী বা আসামী হিসাবে কোন দুগ্ধবতী মা আসলে শিশুদের দুধ পান করানোর সময় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন।
সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. শফিকুল আলম বলেন,‘আমরা যতদূর জানি ২০১৪ সালে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৮ম তলা পৃথক ভবন নির্মাণের জন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু ভবন নির্মাণ না করায় সেই টাকা ফেরত গেছে। গণপূর্ত বিভাগ নাকি আরো বেশী টাকা বরাদ্দ চেয়েছিলো। সেই বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। পৃথক ভবন না হওয়ায় আমরা সবাই সমস্যায় ভোগছি। বিচার প্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব পৃথক ভবন নির্মাণ করা হোক।’ ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার করার বিষয়ে তিনি বলেন,‘গত দুই মাস আগে আমাদের কাছে এই নির্দেশনা এসেছে। আমরা এই কর্নার করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে জায়গা চেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাইনি। তাই এটা করা সম্ভব হচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন,‘জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিজস্ব ভবন না থাকায় একটি এজলাসে পালা করে দুই জন বিচারক বিচার কার্য সম্পাদন করছেন। এতে বিচারকার্য চালাতে গিয়ে বিচারকগণ হিমশিম খাচ্ছেন এবং বিচার প্রার্থীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা আইনজীবী হিসাবে দ্রুত পৃথক ভবন নির্মাণ চাই। যাতে করে সবার দুর্ভোগ লাঘব হয়।’
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিক বলেন,‘৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য সিলেট সার্কেল অফিস থেকে একটি দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী মাসের ২১ তারিখ দরপত্র খোলা হবে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। আমাদের আশা আগামী ডিসেম্বর মাসেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’ তিনি আরো জানান, এর আগে কোন বরাদ্দ হয়নি বা কোন বরাদ্দ ফেরত যায় নি।
- কর বাড়ানোর নোটিশ স্থগিত- আইনজীবীদের সাথে পৌর মেয়রের মতবিনিময়
- ভাসমান শৌচাগার-জব্দকৃত ড্রামে হচ্ছে শৌচাগার


