স্টাফ রিপোর্টার
বায়োফার্টিফাইড জিংক ধান ও চাল সংগ্রহের বিষয়ে জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ফলিত ও পুষ্টি গবেষণা ইন্সস্টিটিউট (বারটান) সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম ভুঞা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) এর প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল বাশার চৌধুরী।
সভায় জিংক ধানের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে উল্লেখ করে বলা হয়, ব্রি ধান ৬২, ৬৪, ৭২, ৭৪, ৮৪, ১০২, বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ ও বিনা ধান ২০ জাতের ধানে জিংক রয়েছে। জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেলে ছেলে মেয়েরা খাটো হয় না, শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ হয়, ক্ষুধা মন্দা দূর করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কিশোরী মেয়ে ও গর্ভবতী মায়ের জিংকের অভাব হলে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। এজন্য জিংক সমৃদ্ধ ধান আবাদ করতে হবে।
জেলায় এবার জিংক সমৃদ্ধ ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭৪ মে.টন। যা সংগ্রহে কাজ করছে খাদ্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে শেষ সময়ে এসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন উপজেলাগুলোতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা খাদ্য ও কৃষি কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে বোরো ধান আবাদের আগে বলা হলে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতো বলে জানান তারা।
জামালগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, এবার জিংক সমৃদ্ধ ধান সম্পর্কে না জানার কারণে কৃষকদের বলতে পারি নি। একারণে সকল ধান কৃষক এখন এক সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন। শেষ পর্যায়ে এসে জানালেও কৃষকরা বলছেন, এখন জিংক সমৃদ্ধ ধান আলাদা করা যাবে না।
একই উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের সমন্বয়ের অভাব ছিলো। জিংক সম্পর্কে আমরা আগে জানতাম না। জেলা অফিস থেকে বলার পর কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি জিংক সমৃদ্ধ ধানের ব্যাপারে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা হলেই একই প্রশ্ন- জিংক সমৃদ্ধ ধান পেয়েছি কি-না? প্রান্তিক কৃষকও ভয়ে ধান নিয়ে আসতেছে না। সকল জাতের ধান একসঙ্গে রাখার কারণে গোডাউনে আসার পর যদি জিংক সমৃদ্ধ ধান না পাওয়া যায় সে কারণে। তবে সামনের বছর চেষ্টা করবো, বেশি জিংক সমৃদ্ধ ধান সংগ্রহ করার জন্য।
দিরাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামরুল ইসলাম বলেন, এবছর জিংক সমৃদ্ধ ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও সামনের বছর আশা করি হবে। কারণ এখন আমরা এই ধান সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এজন্য জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষাবাদ করা কৃষকদের গোদামে ধান দেওয়াতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে বৈশাখ মাসেই ধান কেনা শুরু করতে হবে।
তিনি বলেন, এবার বোরো মৌসুমে জিংক সমৃদ্ধ ধান ব্রি-৭৪ প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ উৎপাদন হয়েছে। অপরদিকে উচ্চ ফলনশীল ধান ২৫ মণও হয়েছে বিঘায়। এজন্য এই জাতের ধানের মূল্য বাড়াতে হবে। তাহলেই কৃষকরা এরকম ধান চাষে উৎসাহ পাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, এবার জেলায় প্রায় ১৮ হাজার মে.টন জিংক সমৃদ্ধ ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে কৃষক সকল প্রকারের ধান একসঙ্গে রাখার কারণে এখন আলাদা করা যাচ্ছে না। আগামী বছর জিংক সমৃদ্ধ ধান আলাদা সংরক্ষণ ও আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করবো।
সভায় জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম ভুঞা বলেন, আমরা সকলকে নিয়ে জিংক সমৃদ্ধ ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কাজ করছি। আশা করি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবো।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের আয়োজনে ও গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন উপজেলার খাদ্য ও কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক এবং গণমধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
- লন্ডনে সিপিবি’র ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
- বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা/ গোধূলির ছায়া সরিয়ে স্নিগ্ধ আলো ফুটিয়ে তুলুন


