বিন্দু তালুকদার
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরীর কাছে ‘দায়মুক্তি’ শব্দের ব্যাখ্যা চেয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
গত ১৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চিঠির মাধ্যমে ওই ‘দায়মুক্তি” শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেছেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠি সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রী ও প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী নিজ নামে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন।
পরবর্তীতে ২১ নভেম্বর তারিখে ‘জাতীয় দায়মুক্তি দিবস’ পালন, ‘বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে সংবিধানে স্থায়ী পর্যাদা প্রদান’, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সাথে নিহতদের ‘শহীদ’ আখ্যা দান এবং বিদ্যালয়ের একটি কক্ষকে ‘শহীদ আবুল হোসেন কক্ষ’ নামকরণ
বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত একটি আবেদন করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওই আবেদনে জেলা প্রশাসকেরও সহযোগিতা চান।
এসব আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম তা বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনায় তিনি দেখতে পান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের আবেদনে উল্লেখ করা ‘জাতীয় দায়মুক্তি ’ বলতে কাদের দায়মুক্তির জন্য দিবস পালন করতে চাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। কারণ বর্তমান সরকার যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে ইতিহাসের দায় শোধ করার পথে এগিয়ে গেছে এবং যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের দায়মুক্তি দিবসের আওতাবহির্ভূত হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে রাজ পরিবারের বিধান নেই। তাই বঙ্গবন্ধরু পরিবারকে রাজ পরিবার হিসেবে মর্যাদা প্রদানের বিষয়টি সংবিধানের সার্থে সাংঘর্ষিক। তবে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনে নামে নামকরণের দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে স্বীকার করা হয়।
‘জাতীয় দায়মুক্তি দিবস’ পালনে তিনি যে দাবি উত্থাপন করেছেন সেক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির বিষয়টি যুক্ত আছে কিনা সে বিষয়ে ব্যাখা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত এবং যথাযথ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। দায়মুক্তি ও দায়মুক্তি দিবস পালন’ এসব শব্দের বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় উপযুক্ত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পত্র দেয়া হয়েছে। ’
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বলেন,‘ জেলা প্রশাসকের চিঠি পেয়েছি; আমি জবাব দেব।’ ‘দায়মুক্তি’ ও ‘দায়মুক্তি দিবস পালন’ এসব শব্দের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি সঠিক কিছু বলতে পারেন নি।
‘দায়মুক্তি’ ও ‘দায়মুক্তি দিবস পালন’ নিয়ে বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যম ছাড়াই আবেদন করার বিষয়ে তিনি বলেন,‘ জেলা প্রশাসকই আমাদের কর্তৃপক্ষ; তাই আমি উনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। কোন সংশোধনের বিষয় থাকলে , উনার পরামর্শে তা সংশোধন করা হবে।’


