বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের মাঠে খেলাধুলার পরিবর্তে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এনিয়ে গত ১০ দিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পুকুরে মাছ চাষের সচিত্র ছবি-সাইবোর্ডের ছবিসহ বিস্তারিত লিখে সবাইকে বিষয়টি জানাচ্ছেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্ররা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক প্রাক্তন ছাত্র।
এদিকে ছবিসহ ফেসবুকে লেখালেখির কারণে শহরের হাছননগরের বাসিন্দা কলেজের প্রাক্তন ছাত্র রিপন জামানকে অধ্যক্ষ অপমান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার জন্য কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, কর্মচারী ও কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রিপন।
তবে এসব অভিযোগ মোটেও সঠিক নয় দাবি করে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন,‘ রিপন নামের একজন আমার সাথে কোন ধরনের কথা না বলেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মিথ্যা-ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে মনগড়া লেখালেখি করছেন। আমি তাকে চায়ের আমন্ত্রণ দিয়েছিলাম এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য। কেন তিনি আমাদের কলেজের বিষয়ে এসব কথাবার্তা লিখছেন জানার জন্য। কিন্তু তিনি আমাকে আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে রবিবার চলে এসেছেন। সেদিন কলেজে অতিথি এসেছিল তাই কথা বলতে পারিনি। বলেছিলাম পরদিন ১১ টায় আসতে, তিনি আর আসেন নি। আমি তাকে কোন কিছুই বলিনি । এখন শুনছি তিনি আরো নানা কুৎসা রটাচ্ছেন।’
অধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘কলেজের মাঠে মাছ চাষ করা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় কলেজে আসবেন তাই মাঠে যাতে কেউ গরু-ছাগল চড়াতে না পারে তাই লাল নিশান টানানো হয়েছে। মাছ চাষের কোন সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। বিষয়টির খোঁজ নেয়া হবে ।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র রিপন জামান গত ২১ মে ৭ টা ২৯ মিনিটে তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন,‘লীজ নিয়ে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে পানি আটকিয়ে- লাল নিশান টানিয়ে মাছচাষ। কলেজ তথা এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে এই ব্যবস্থা কেন ? সুনামগঞ্জে কি মাছের খুব অভাব ? খেলার মাঠ লীজ নিয়ে কি মাছচাষ করা যায় ? তার এই পোস্টের পর অনেক প্রাক্তন ছাত্র নানা মন্তব্য করেছেন।
কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সুদীপ্ত রায় গত ২৯ মে রাত ১২ টায় লিখেছেন,‘ শিক্ষার মান উন্নয়নে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যায়ামাগার বা খেলার মাঠের প্রয়োজন খুব বেশি। সুনামগঞ্জের সন্তান হিসাবে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ার সুযোগ হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ। শিক্ষার মান ও বিশাল সীমানা ঘেরা এই দুই প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জবাসীর গর্ব। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামান্যতম ক্ষতি বা অপরিকল্পিত পরিবর্তন আমাদের শরীরে গ্যাংগ্রিনের মতো ক্ষত সৃষ্টি করে। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম ক্লাস ফোর কি ফাইভের কথা তখন কিছু বালু/পাথর ব্যাবসায়ী স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি দখল করে নিয়েছিলো তাদের বালু পাথরের পাহাড় দিয়ে। স্কুলের কিছু প্রাক্তন ছাত্র ও আমরা সবাই মিলে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে মাঠটিতে স্কুলের কর্তৃত্ব পুনরায় স্থাপন করি। এখন পর্যন্ত খেলার মাঠটি খেলার মাঠ হিসেবেই আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্কুল মাঠে মাছ চাষ অথবা কোনও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে নাই।
কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের কলেজ কর্তৃপক্ষ লাল নিশান টাঙ্গিয়ে কলেজের একমাত্র মাঠটিকে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণ করে মাছ চাষ শুরু করে। এতে কলেজের কিছু প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কলেজ কর্তৃক্ষের তীব্র নিন্দা জানায়। মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনাদের উপর পূর্ণ সম্মান রেখে বলতে চাই আপনি বা আপনারা যদি মনে করেন যে কলেজের উন্নয়নের জন্য এতে মাছ চাষ করেছেন, তাহলে আমরা বলতে চাই- মাছ চাষ করুন ভালো কথা কলেজ মাঠে নয় কলেজের পুকুরে চাষ করুন। কলেজের উন্নয়নের জন্য কলেজ মাঠে মাছ চাষের কি প্রয়োজন! কোনও উন্নয়নের প্রয়োজনে আপনি প্রস্তাব রাখতে পারেন সংসদ সদস্য মহোদয়, জেলা প্রশাসনের প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাছে, কারণ আমার জানামতে তিনারাও ওই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। আপনাদের কাছে অনুরোধ, মাঠটিকে খেলার মাঠ হিসেবেই রাখুন শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করুক নেশার জগতে বা সন্ত্রাসী কর্মকা-ে হারিয়ে যেনো না যায় যুব সমাজ।’
কলেজের প্রাক্তন ছাত্র রিপন জামান সোমবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমি ফেসবুকে সরকারি কলেজের মাঠে মাছ নিয়ে লেখায় গত ২২ মে থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দিয়ে কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষের সাথে দেখা করার জন্য বলেন। পরে ২৯ মে বেলা ১১ টায় ৩ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর ফয়জ্জুনুরকে সাথে নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে দেখা করতে যাই। এসময় অধ্যক্ষ আমাকে অপমান করে এক কর্মচারীকে বলেন,‘তাকে গিয়ে কও ৪র্থ শ্রেণির সব কর্মচারীকে নিয়ে আসতে। তখন আমি বলেছি এই কলেজে চাকুরী করি না। আমি কেন তাদের ডেকে নিয়ে আসব। এসব বলে আমি চলে আসি। এখন শুনতে পাচ্ছি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী করার জন্য কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, কর্মচারী ও কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন অধ্যক্ষ।’
- বিশ্বম্ভরপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
- স্বাধীনতার মুল্যবোধকে অক্ষুন্ন রাখতে- নৌকায় ভোট দিন -ব্যারিষ্টার ইমন


