সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত এক নবযুগের সূচনা

হোসেন তওফিক চৌধুরী
ইতিহাস গতিশীল। ইতিহাস থমকে থাকে না। অনেক ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলে। এটাই ইতিহাসের মর্মকথা ও ধর্ম। সুনামগঞ্জের ইতিহাসেও পরিবর্তন-বিবর্তন এসেছে। বলতে গেলে বলতে হয় আমরা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলাম। সভ্যতার আলো বাতাস থেকে অনেক দূরে ছিল আমাদের অবস্থান। এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমরা আলোর পথের যাত্রী। সুনামগঞ্জের ইতিহাসে আলোকিত অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের প্রান্তকোণের সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি ও অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এবং অপার সম্ভাবনার জেলা সুনামগঞ্জ। প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণে অনগ্রসরতা ও পিছিয়ে পড়া। এই জন্যে মানুষের মনে ছিল দু:খ ও অনুতাগ। কিন্তু মানুষের বুক ভরা স্বপ্ন, আশা-আকাংখা পিছিয়ে নেই। স্বপ্নই ছিল, বাস্তবায়নের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা ছিল না।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সভা গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সুনামগঞ্জের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন অনুমোদন লাভ করে। জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আশা রয়েছে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সুনামগঞ্জের সর্বত্র অভূতপূর্ব আনন্দের বান দেখা দিয়েছে। আনন্দে উদ্বেলিত মানুষ খুশিতে আত্মহারা। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও অভিনন্দন সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত সুনামগঞ্জের ইতিহাসকে আলোকিত করেছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই দুইটি প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। এই দুইটি প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জকে উচ্চ শিক্ষার অভাবনীয় সুযোগ করে দেবে। ফলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও পিছিয়ে পড়া ও দু:খের ইতিহাসের পরিসমাপ্তি হবে। এই নিবন্ধ লিখতে গিয়ে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি পংক্তির কথা আমার বার বার মনে হচ্ছে। পংক্তিটি হচ্ছে ‘যন্ত্র যদি পড়ে থাকে হাজার জনার মাঝে, যন্ত্রি না হলে যন্ত্র কেমন করে বাজে।’ অতীতেও সুযোগ ছিল কিন্তু হয়নি। এই জন্য দু:খ নেই, নেই কোনো অভিযোগ। অতীত আজ কালের গর্ভে বিলীন। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের দৃষ্টি।
সুনামগঞ্জের সুসন্তান ও কৃতিসন্তান জনকল্যাণে নিবেদিত পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ মান্নানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন হতে চলেছে।
সুনামগঞ্জের ইতিহাসে এক নবযুগের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভাটির মানুষ জনকল্যাণে ব্রতী এম.এ মান্নানের মতো একজন নেতা পেয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছেন। এছাড়াও তিনি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, করে যাচ্ছেন। এই জন্য ইতোমধ্যেই জনচিত্তে তিনি তাঁর আসন প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে লোকে বলে তিনি সুনামগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার ও প্রাণপুরুষ। এম.এ মান্নানের নাম ও অবদান সুনামগঞ্জের ইতিহাসে শ্রদ্ধা , ভালবাস ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে।
লেখক: সিনিয়র আনজীবী ও কলামিস্ট।