৮ ইউনিয়নে ৩৮ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে ৩৮ জন প্রার্থী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ৮ জন নৌকার মাঝির বিপরীতে ২৯ জন লড়বেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে। এছাড়া একজন লড়বেন খেলাফত মজলিসের খেজুর গাছ প্রতীকে। এখনো প্রতীক বরাদ্দ বা মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন না হলেও দলীয় প্রার্থী নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যান্য প্রার্থী যারা নির্বাচন করবেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত। ভোট প্রত্যাশী হয়ে সকল প্রার্থীই যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। অন্যদিকে নিচ্ছেন মনোনয়ন দাখিলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। নভেম্বরের ২ তারিখ পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন জমা দানের কাজ। তবে ধারণা করা হচ্ছে মনোনয়ন দাখিল শেষে দু’একজন প্রার্থী বাড়তে কিংবা কমতে পারেন।
উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে খবর নিয়ে জানা যায়, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীসহ মোট ৩৮ জন ব্যক্তি চেয়ারম্যান হতে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায়, বাজার-হাটে করছেন উঠান বৈঠক, জনসভা। গণসংযোগ করে নিজের পক্ষে আনতে চাইছেন সমর্থন। কোনো কোনো প্রার্থী একটু কৌশলী হয়ে একান্তভাবে একাই যাচ্ছেন ভোটারদের দরজায় দরজায়। অনেক জায়গায় প্রার্থীদের সমর্থনে হচ্ছে মিছিলও। যে ৩৮জন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন তাদের মধ্যে ৮ জন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত (নৌকা)। একজন পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে খেলাফত মজলিস সমর্থিত প্রার্থী সজীব আহমদ (খেজুরগাছ)। অপর ২৯ জনের কেউ কেউ আওয়ামীলীগ-বিএনপির রাজনীতি করেন। আবার অনেকে একেবারেই স্বতন্ত্র ব্যক্তি। ৮ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীতরা হলেন- পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে জগলুল হায়দার, জয়কলসের মো. মাসুদ মিয়া, দরগাপাশায় মনির উদ্দিন, পূর্ব বীরগাঁওয়ে রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল, পশ্চিম বীরগাঁওয়ে দেবাংশু শেখর দাশ, পূর্ব পাগলায় মো. রাসিকুল ইসলাম, পাথারিয়ায় শামসুল ইসলাম রাজা ও শিমুলবাকে মিজানুর রহমান জিতু। পশ্চিম পাগলায় অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক। জয়কলস ইউনিয়নের অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- আবদুল বাসিত সুজন, হাসান মাসুদ তারেক, ফরিদুর রহমান ফরিদ, রাজা মিয়া ও আবদুল লতিফ কালশাহ্। দরগাপাশায় সুফি মিয়া, মাহমুদুল হাসান দোলন, নেছার আলম শামীম ও আবু খালেদ চৌধুরী রুবেল। পূর্ব বীরগাঁওয়ে ছালেক উদ্দিন, রুবেল মিয়া ও মসিক মিয়া। পশ্চিম বীরগাঁওয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, শাহীন আহমদ, লুৎফুর রহমান জায়গীরদার রাজা, মো. নূর মিয়া ও মো. শামসু মিয়া। পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- মাসুক মিয়া, কামাল হোসেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন। পাথারিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ আমিন ও শহিদুল ইসলাম এবং শিমুলবাক ইউনিয়নের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন আবদুল্লাহ মিয়া, শাহীনুর রহমান শাহীন, কবির আহমদ, আকতার হোসেন ও আবদুল খলিল সাগর রানা চৌধুরী।
প্রত্যেকেই ভোটারদের টানতে চাইছেন তাদের পক্ষে। কথা বলছেন ভোটারদের সাথে। রোগী দেখা, বিবাহ অনুষ্ঠানে যাওয়াসহ সব ধরণের সমাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন প্রার্থীরা। বলছেন মধুর কথা, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।
তবে ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা শোনা কথায় কান দিবেন না। মধুর কথায়ও গা ভাসাবেন না। যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোটের মাধ্যমে পছন্দ করে নেবেন আগামী ৫ বছরের জন্য। অবশ্যই তাঁরা এমন কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেবেন না, যারা সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখেন না কিংবা নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের সময় দেন না। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন করতে পারেন, উন্নয়ন কেড়ে আনতে পারেন এমন ব্যক্তিকেই তারা তাদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিলের দিন শেষ হবে। ৪ তারিখ পর্যন্ত চলবে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাইয়ের কাজ। ১১ নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের তারিখ। ২৮ নভেম্বর দেশের ১ হাজার ৭টি ইউনিয়নের সাথে শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৮টি ইউনিয়নেও অনুষ্ঠিত হবে দশম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ।